বাংলার ভোর প্রতিবেদক
শিক্ষামন্ত্রী ডক্টর আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দেশে ছাত্র ছাত্রীরা নকল করলে সেটা শিক্ষকদের দুর্বলতা। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষকদের সহযোগিতায় আমরা পাবলিক পরীক্ষায় নকল বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছিলাম। এবারও শিক্ষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নকলমুক্ত পরীক্ষা আয়োজন করা সম্ভব হবে। পরীক্ষার সময় কোন শিক্ষক বা কর্মকর্তা অনৈতিক কাজের সাথে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সোমবার দুপুরে যশোরে পিটিআই অডিটোরিয়ামে আসন্ন এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষ্যে যশোর শিক্ষাবোর্ড এবং খুলনা বিভাগের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের কেন্দ্র সমূহের সচিবদের নিয়ে মতবিনিময় সভার প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ সব কথা বলেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড যশোর এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
এ সময় শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, শিক্ষকরা যারা বোর্ডে যাচ্ছেন আর ফিরছেন না, এটা হবে না। এ জন্য নীতিমালা করা হচ্ছে। যাতে কোন শিক্ষক এক জায়গায় বেশি দিন থাকতে না পারে।
এদিকে শিক্ষামন্ত্রীর মতবিনিময় সভার একপর্যায়ে শিক্ষকদের কাঠগড়ায় দাঁড়ান শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর ডক্টর মোসাম্মাৎ আসমা বেগম। শিক্ষকরা পাবলিক পরীক্ষায় প্রধান পরীক্ষক ও পরীক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়মের কথা তুলে ধরেন। এছাড়া শিক্ষার্থীর তিনবার রেজিস্ট্রেশনের বাহুল্যের বিষয়েও শিক্ষা বোর্ডের বিরুদ্ধে মন্ত্রীকে অভিযোগ করেন শিক্ষকরা।
এ অভিযোগে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এক মুরগি তিনবার জবাই করা চলবে না। মন্ত্রী বোর্ড চেয়ারম্যানকে সতর্কও করেন।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বিদ্যালয়ে গাইড বই বাণিজ্য ও শিক্ষার্থীদের নকল করার প্রবণতার দায় শিক্ষকদের ওপর দেন। এছাড়াও তিনি দেশের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে দোকান ঘর নির্মাণ করে ভাড়া দেয়াকে অবৈধ উল্লেখ করে তা বন্ধ করে দেয়ার কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে যশোর শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর ডক্টর মোসাম্মাৎ আসমা বেগমের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জিএম নজরুল ইসলাম, বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আলিম, নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু, যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মোক্তার আলী, যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক, ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মতিয়ার রহমান, মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মিয়া মো. নুরুল হক, কারিগরি বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রুহুল আমিন প্রমুখ।
পরে এদিন বিকেলে শিক্ষামন্ত্রী যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিদর্শন করেন।

