বাংলার ভোর প্রতিবেদক
সারা দেশে চলমান বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যেই আগামীকাল সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই পাবলিক পরীক্ষা ঘিরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে প্রস্তুতির স্বস্তি থাকার কথা থাকলেও, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আশঙ্কা এবার সেই আবহে যোগ করেছে বাড়তি উৎকণ্ঠা। পরীক্ষা চলাকালে বিদ্যুৎ না থাকলে কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেয়া হবে এ প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর নেই সংশ্লিষ্টদের কাছে। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা বোর্ডের বক্তব্যে দেখা দিয়েছে স্পষ্ট অসামঞ্জস্যতা।
শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখনো পর্যন্ত কোনো সুস্পষ্ট ও লিখিত নির্দেশনা তাদের হাতে পৌঁছায়নি। ফলে সম্ভাব্য বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় কী করণীয় তা নিয়ে রয়েছে দোটানায়।
যশোর জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদিন জানান, জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি সভায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ বিভাগকে অবহিত করার কথা বলা হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প ব্যবস্থার বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেয়া হয়নি।
সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম বলেন, যশোর শিক্ষা বোর্ড থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। মৌখিকভাবে শুধু বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পরীক্ষা সচল রাখতে হবে। কিন্তু বাস্তবে বিদ্যুৎ না থাকলে কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেয়া হবে, তা স্পষ্ট নয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কেন্দ্র সচিব জানান, অনেক কেন্দ্রেই স্বাভাবিক সময়ে পর্যাপ্ত ঢোকার ব্যবস্থা নেই। সেখানে পরীক্ষার পুরোটা সময় আলো জেলে রাখতে হয়।
তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু বিকল্প আলো দিয়ে পুরো পরিস্থিতি সামাল দেয়া সম্ভব নয়। পর্যাপ্ত আলোর অভাবে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র পড়া ও উত্তর লেখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে, যা পরীক্ষার মান ও স্বাভাবিক পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. আব্দুল মতিন বলেন, বিদ্যুৎ সংকট একটি জাতীয় সমস্যা। তারপরও কেন্দ্র সচিবদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং বিকল্প হিসেবে মোমবাতি ও চার্জার লাইট রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, যাতে পরীক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেয়া যায়।
অভিভাবকদের অভিযোগ, সারা বছর যেমন তেমন গত বেশ কিছুদিন ধরে হঠাৎ করে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটেছে। এর মধ্যে পরীক্ষার সময় একই সমস্যা দেখা দিলে তা শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি মানসিক চাপ তৈরি করবে। এতে তাদের ফলাফলও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
একজন অভিভাবক বলেন, সারা বছর কষ্ট করে পড়াশোনা করেছে বাচ্চারা। এখন পরীক্ষার সময় যদি বিদ্যুৎ না থাকে, তাহলে তারা কীভাবে স্বাভাবিকভাবে পরীক্ষা দেবে?
শিক্ষার্থীরাও বলছে, পর্যাপ্ত আলো না থাকলে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে, যা তাদের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, এমন গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষার আগে সমন্বিত পরিকল্পনা থাকা জরুরি ছিল। কেন্দ্রভিত্তিক প্রস্তুতি, বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এবং সুস্পষ্ট নির্দেশনা নিশ্চিত না থাকলে যে কোনো সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় যশোর জেলায় অংশ নেবে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৯ জন শিক্ষার্থী। জেলার ২৯৯টি কেন্দ্রে একযোগে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

