বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোরকে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় কার্যকরভাবে অন্তর্ভুক্ত করা এবং বেনাপোল-যশোর-নড়াইল-ঢাকা রুটে কাক্সিক্ষত ট্রেন সার্ভিস চালুর দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে ‘বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি’। মঙ্গলবার দুপুরে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকারের হাতে এ স্মারকলিপি তুলে দেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
স্মারকলিপিতে নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, প্রায় ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১৬ সালে গৃহীত পদ্মা সেতু ও রেল সংযোগ প্রকল্পের নাম “ঢাকা-যশোর” হলেও বাস্তবে যশোর শহরকে দীর্ঘদিন পরিকল্পিতভাবে এ সুবিধার বাইরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রকল্পের প্রাথমিক নকশা অনুযায়ী যশোর শহরের যাত্রীদের ট্রেনে উঠতে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে পদ্মবিলা স্টেশনে যেতে বাধ্য করার সিদ্ধান্তে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।
তারা উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর স্থানীয় জনগণের প্রতিবাদ ও সচেতনতার ফলে শেষ পর্যন্ত যশোরবাসী একটি ট্রেন সুবিধা পেলেও তা যাত্রী চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। ফলে এ অঞ্চলের বিপুল সংখ্যক যাত্রী এখনো কাক্সিক্ষত রেলসেবা থেকে বঞ্চিত।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, আগামী ২৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর যশোর সফরকে ঘিরে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। এ সফরেই যশোরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবিগুলো পূরণের ঘোষণা আসবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন নেতৃবৃন্দ।
বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, ভোরে বেনাপোল থেকে যশোর-নড়াইল হয়ে ঢাকাগামী একটি আন্তঃনগর ট্রেন চালু। যাতে যাত্রীরা দিনে গিয়ে দিনে প্রয়োজনীয় কাজ শেষে ফিরতে পারেন।
এছাড়া দর্শনা থেকে যশোর-নড়াইল-ঢাকা রুটে আরও দুটি আন্তঃনগর ট্রেন চালু এবং সাধারণ যাত্রীদের জন্য নড়াইল-যশোর-বেনাপোল বা দর্শনা রুটে অন্তত একটি লোকাল ট্রেন চালু করা।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বেনাপোল, যশোর, মোবারকগঞ্জ, কোটচাঁদপুর ও দর্শনা অঞ্চল থেকে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী ঢাকায় যাতায়াত করেন। এই রুটে পর্যাপ্ত ট্রেন চালু করা হলে যেমন যাত্রীসেবার মান বাড়বে, তেমনি বাংলাদেশ রেলওয়ে আর্থিকভাবেও লাভবান হবে।
এছাড়া দর্শনা থেকে খুলনা পর্যন্ত ডাবল লাইন রেলপথ নির্মাণ, সুবিধাজনক স্থানে একটি অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার টার্মিনাল (আইসিটি) স্থাপন এবং প্রতিটি আন্তঃনগর ট্রেনে সাধারণ যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত সাধারণ বগি সংযুক্ত করার দাবিও স্মারকলিপিতে তুলে ধরা হয়।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন, বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক রুহুল আমিন, সদস্য সচিব জিল্লুর রহমান ভিটু, যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান হিরু ও হাবিবুর রহমান মিলন, যুগ্ম সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান বুলু, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বাংলার ভোরের উপদেষ্টা সম্পাদক হারুণ অর রশীদ, অধ্যক্ষ শাহিন ইকবাল, সাঈদ আহমেদ, রিয়াদুর রহমান, নাসির মোক্তার, রিয়াদুর রহমান এবং অ্যাডভোকেট আবুল কায়েসসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
শেষে নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, যশোরবাসীর এই যৌক্তিক ও জনদুর্ভোগ নিরসনে সহায়ক দাবিগুলো প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবেন এবং আসন্ন সফরেই এ বিষয়ে কার্যকর ঘোষণা আসবে।

