বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোরে স্কুলে যাওয়ার পথে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার এক সপ্তাহ পার হলেও তার কোনো খোঁজ না মেলায় পরিবার চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
এ ঘটনায় প্রথমে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও পরে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যশোরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, যশোর সদর উপজেলার ফতেপুর দাসপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও ছাতিয়ানতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ওই ছাত্রী গত ৮ এপ্রিল সকালে স্কুলে যাওয়ার জন্য সকাল আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে বাড়ির অদূরে যশোর-নড়াইল মহাসড়কের একটি মাইলপোস্ট এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা কয়েকজন যুবক তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়।
পরিবারের দাবি, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে বৈশাখীকে উত্যক্ত করে আসছিল। তারা বিভিন্ন সময় প্রেম ও বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে চাপ প্রয়োগ করত। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়া শুরু হয়। বিষয়টি মেয়েটি পরিবারের সদস্যদের জানালে তারা অভিযুক্তদের সতর্কও করেন।
ঘটনার দিন স্কুলে যাওয়ার পথে অভিযুক্তরা জোর করে বৈশাখীকে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় সে চিৎকার করলেও আশপাশের কেউ তাকে উদ্ধার করতে পারেনি বলে পরিবারের দাবি। পরে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে ১১ এপ্রিল যশোর কোতয়ালী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
অভিযোগ রয়েছে, এক পর্যায়ে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে মেয়েটি তাদের হেফাজতে রয়েছে বলে দাবি করা হয় এবং তাকে ফেরত দেয়ার শর্ত হিসেবে বিয়ের প্রস্তাব দেয়া হয়। তবে পরবর্তীতে অভিযুক্তরা আর কোনো যোগাযোগ করেনি এবং এলাকা থেকেও তারা গা-ঢাকা দেয়।
এ অবস্থায় যশোর সদরের ফতেপুর গ্রামের পরশ দাস (২২), আশিক দাস (২০) ও সুজল দাসকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় যশোর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অপহৃতার বাবা দেবদাস বিশ্বাস বলেন, “আমার মেয়েকে জীবিত ফিরে পেতে চাই। আমরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজেছি, কিন্তু এখনো কোনো সন্ধান পাইনি। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আমার মেয়েকে উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ভিকটিমকে দ্রুত উদ্ধারের পাশাপাশি অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

