বাংলার ভোর প্রতিবেদক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি যশোর পৌর ৭নং ওয়ার্ড শাখার যুগ্ম সম্পাদক ও গ্রীনল্যান্ড প্রোপার্টিজের স্বত্বাধিকারী আবাসন ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন হত্যা মামলার প্রধান আসামি বাসেদ আলী পরশ জামিনে মুক্তি পাওয়ায় চরম উদ্বেগ, ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতা দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছে তার পরিবার।
মঙ্গলবার বেলা ১২টায় প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন নিহতের স্ত্রী শামীমা বেগম। এ সময় তার মেয়ে ইলোরা খাতুন রাত্রি, ভাইপো রেদওয়ান হাসান, মামা তবিবর রহমান, এনামুল হকসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, প্রকাশ্যে গুলি করে আলমগীর হোসেন হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও নিহতের জামাই বাসেদ আলী পরশ গত ২৮ এপ্রিল উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভের পর ৩০ এপ্রিল যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান। মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই আসামি নিজে এবং সন্ত্রাসীদের দিয়ে ক্রমাগত তাদের জীবননাশের হুমকি দিচ্ছে। ফলে তারা নতুন করে আতঙ্কের মুখে পড়েছেন।
আরো বলা হয়, বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেনকে চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার ইসহাক সড়কে নিজ বাড়ির সামনে প্রকাশ্যে গুলি করা হয়। মোটরসাইকেলে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে তাকে স্থানীয়দের সহায়তায় যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনার পরদিন অর্থাৎ ৪ জানুয়ারি যশোর কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পরে পুলিশ প্রধান দুই আসামী বাসেদ আলী পরশ ও আসাবুল ইসলাম সাগরকে আটক করে এবং তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। অথচ এ ঘটনার মাত্র চার মাসের ব্যবধানে প্রধান আসামির জামিনে মুক্তি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
নিহতের স্ত্রী শামীমা বেগম অভিযোগ করেন, আসামির বাবা একজন আইনজীবী ও সাবেক জনপ্রতিনিধি হওয়ায় এবং আসামি নিজেও আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকায় আইনি সুযোগ কাজে লাগিয়ে দ্রুত জামিন পেয়েছে। তিনি আরো বলেন, আসামিরা কারাগারে থাকাকালীন বিভিন্ন মাধ্যমে আমাদের হুমকি দিয়েছে। এখন জামিনে মুক্ত হয়ে সরাসরি ও সন্ত্রাসীদের দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। ফলে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
সংবাদ সম্মেলন নিহতের পরিবার আসামিদের জামিন বাতিল এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান।

