বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোরের অভয়নগরে নওয়াপাড়া নৌবন্দর এলাকায় দোকান ঘর ভাড়া সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুর্বৃত্তের হামলায় নিহত ব্যবসায়ী আনিছুর রহমানের (৬৭) জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী নাহিদা ইমাম বাদী হয়ে প্রধান অভিযুক্ত শাহ মাহামুদসহ অজ্ঞাত আরও পাঁচ জনের নামে মামলা দায়ের করেছেন।
বৃহস্পতিবার বাদ আছর নওয়াপাড়া রেলওয়ে জামে মসজিদ সংলগ্ন সড়কে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ সালাউদ্দিন দীপু, থানা বিএনপির সভাপতি ফারাজী মতিয়ার রহমান, সার কয়লা ও খাদ্যশস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গণি সরদার, সাধারণ সম্পাদক শাহ জালাল হোসেন, থানা জামায়াতের আমীর সরদার শরীফ হোসেন, জয়েন্ট ট্রেডিং কর্পোরেশনের শেয়ারহোল্ডার আনিসুর রহমান ওরফে ছোট আনিসসহ মরহুমের একমাত্র ছেলে শুভ এবং বিপুল সংখ্যক ব্যবসায়ী ও স্থানীয় মানুষ অংশ নেন।
জানাজা শেষে নিহত আনিসুর রহমানকে সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার কুশোডাঙ্গা গ্রামে দাফন করা হয়।
নিউজের ভিডিও (সিসি টিভি) দেখতে লিংকে ক্লিক করুন .. ..
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ৩ টায় নওয়াপাড়া রেলস্টেশন জামে মসজিদ সংলগ্ন যশোর-খুলনা মহাসড়কে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রতিবাদ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন ব্যবসায়ীরা।
এ সময় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নওয়াপাড়া সার, কয়লা ও খাদ্যশস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গণি সরদারের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহ জালাল হোসেন, ব্যবসায়ী নেতা আবু নঈম মোড়ল, রেজাউল ইসলাম মোল্লা, হাবিবুর রহমান ও সরদার শরীফ হোসেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানান। এ ঘটনার প্রতিবাদে নওয়াপাড়ার ব্যবসায়ীরা দিনব্যাপী কর্মবিরতি ও দোকানপাট বন্ধ রাখেন।
নিহত আনিসুর রহমান সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার কুশোডাঙ্গা গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে। ব্যবসায়িক কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অভয়নগরের গুয়াখোলা গ্রামে বসবাস করছিলেন। তিনি নওয়াপাড়া বাজারের সার আমদানি-রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স জয়েন্ট ট্রেডিং কর্পোরেশন লিমিটেডের পরিচালক ছিলেন।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, বুধবার মাগরিবের নামাজের আগে আনিছ ট্রেড ভ্যালি মার্কেটের সামনে আনিছুর রহমানের সঙ্গে কয়েকজন কথা বলছিলেন। এ সময় পীরবাড়ির সন্তান শাহ জুনায়েদের ছেলে শাহ মাহমুদের নেতৃত্বে ৫ থেকে ৬ জন যুবক সেখানে এসে মার্কেটের ঘর ভাড়া দেয়া নিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে শাহ মাহমুদ কোমর থেকে একটি চাইনিজ কুড়াল বের করে আনিছুর রহমানের মুখমণ্ডলে আঘাত করে দ্রুত পালিয়ে যায়।
পরে আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। খুলনা নেয়ার পথে রাত আড়াইটার দিকে তার মৃত্যু হয়। পরে বৃহস্পতিবার সকালে নওয়াপাড়ার বাড়িতে তার মরদেহ আনা হয়।
অভয়নগর থানার ওসি তদন্ত জাহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শাহ মাহামুদ পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে।

