হিমেল খান
মাথার সামনের চুলের স্টাইলটা অনেকটা ব্রাজিলিয়ান ফুটবল তারকা নেইমারের মতো। তাই শখ করে নাম রাখা হয়েছে নেইমার। ১৩শ’ কেজি ওজনের বিশাল এই ষাঁড়টি কোরবানির হাটে উঠতে এখনও প্রায় সপ্তাহখানেক বাকি থাকতেই যশোরের অভয়নগরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন এক নজর দেখতে। অনেকেই বিস্মিত হচ্ছেন এত বড় একটি ষাঁড়কে দড়ি ছাড়া নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াতে দেখে।
নিউজের ভিডিও দেখতে লিংকে ক্লিক করুন .. ..
যশোরের অভয়নগর উপজেলার সুন্দলী ইউনিয়নের ডাঙ্গামশিহাটি গ্রামের তরুণ খামারি দেবু পাড়ে তিন বছর ধরে আদর-যত্নে বড় করেছেন নেইমারকে। ফেলেক্স ভি জাতের এই ষাঁড়টি সুউচ্চ দেহ, আর সুন্দর গঠন এবং মাথার সামনের বিশেষ চুলের স্টাইল সহজেই অন্য সব গরু থেকে আলাদা নজর কেড়েছে। স্থানীয়দের কাছে সে এখন শুধু একটি গরু নয়, বরং এক বিশেষ আকর্ষণ। তবে আকৃতিতে বিশাল হলেও স্বভাবে অত্যন্ত শান্ত ‘নেইমার’। তাই বেশির ভাগ সময় তাকে দড়ি ছাড়াই খামারের আশপাশে রাখা হয়।
২০২২ সালে যশোর সরকারি এমএম কলেজ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করার পর চাকরির পেছনে না ছুটে পারিবারিক খামারে সময় দিতে শুরু করেন দেবু পাড়ে। ছোটবেলা থেকেই পশুপালনের প্রতি তার আগ্রহ ছিল।
সেই আগ্রহ থেকেই নিয়মিত পরিচর্যা ও পুষ্টিকর খাদ্যের মাধ্যমে তিনি গড়ে তুলেছেন এই বিশাল ষাঁড়টিকে।
প্রতিদিন তিনবার গোসল করানো হয় ‘নেইমার’কে। খাবারের তালিকায় থাকে খোল, ভুসি, কাঁচা ঘাস, খড় ও পুষ্টিকর খাদ্য। নিয়মিত পরিচর্যায় ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতার ষাঁড়টির ওজন দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩শ’ কেজিতে।
দেবু জানান, তিন বছরে নেইমার’র পিছনে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এবারের কোরবানির হাটে তিনি গরুটির দাম আশা করছেন প্রায় ১২ লাখ টাকা।
তিনি বলেন, অনেক ভালোবাসা আর শ্রম দিয়ে গরুটিকে বড় করেছি। ভালো দাম পেলে খরচ উঠবে, সঙ্গে কিছু লাভও হবে।
বিশাল আকৃতির এই ষাঁড়টির দেখাশুনায় দেবুর সবচেয়ে বড় সহায়ক তার মা ইতি পাড়ে। তিনি বলেন, পরিবারের সদস্যের মতোই যত্ন করি। বিক্রি হলে মন খারাপ হবে, কিন্তু সংসারের প্রয়োজনেই শেষ পর্যন্ত বিক্রি করতে হবে এই গরুটি।
এদিকে নেইমারের খবর ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিদিন স্থানীয়সহ দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ গরুটির ওজন ও দাম সম্পর্কে খোজ নিচ্ছেন।
স্থানীয় এক খামারি সুদিপ মন্ডল বলেন, এবারের কোরবানির হাটে ১৩শ’ কেজির এই ষাঁড়টি অন্যতম আকর্ষণ হবে।
স্থানীয় আরেক খামারি কানু বিশ্বাস বলেন, এই ষাঁড়টির গঠন ও সৌন্দর্য দুটোই চমৎকার। ভালো দামেই বিক্রি হবে।
যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান জানান, জেলার আট উপজেলায় এবার কোরবানির জন্য ১ লাখ ১৭ হাজার পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে অনেক খামারি পুষ্টিকর খাবার ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে বড় আকারে গরু প্রস্তুত করেছেন।
হাটে উঠতে এখনও কয়েকদিন বাকি। তবে তার আগেই অভয়নগরের ‘নেইমার’ কোরবানির বাজারে আলোচনার অন্যতম নাম হয়ে উঠেছে।

