বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
গ্রাম আদালত কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, কার্যকর ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে যশোর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দ্বিতীয় ব্যাচের দুই দিনব্যাপি গ্রাম আদালত বিষয়ক রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ কোর্স শুরু হয়েছে। রোববার যশোর সার্কিট হাউসে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণে জেলার অভয়নগর, মণিরামপুর, কেশবপুর ও ঝিকরগাছা উপজেলার ৪৭ টি ইউনিয়নের ৪৭ জন ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন।
প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন যশোর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রফিকুল হাসান। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে উপপরিচালক বলেন, গ্রাম আদালতের বিচারিক সেবা ইউনিয়ন পরিষদের একটি আবশ্যকীয় কাজ। বিচারের কাজটি করবেন চেয়ারম্যান, মেম্বাররা। কিন্তু তাদেরকে আইনগত, প্রক্রিয়াগত, নথী প্রস্তুত ও সংরক্ষণে সার্বিক সহযোগিতা করবেন আপনারা।
গ্রাম আদালত সঠিকভাবে পরিচালিত হলে অনেক বিরোধ স্থানীয় পর্যায়েই নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে। এতে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষ দ্রুত ন্যায়বিচার পাবেন, অন্যদিকে উচ্চ আদালতগুলোর ওপর মামলার চাপও কমবে। এজন্য ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গ্রাম আদালত আইন ও বিধিমালা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন। আর এ বিষয়ে একটি স্বচ্ছ ধারনা নেওয়ার জন্য এই প্রশিক্ষণটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, দুই দিনের এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা গ্রাম আদালতের আইনগত কাঠামো, বিচার প্রক্রিয়া, এখতিয়ার, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং বিভিন্ন ব্যবহারিক দিক সম্পর্কে সম্যক ধারণা অর্জন করবেন। অর্জিত জ্ঞান মাঠপর্যায়ে কাজে লাগিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রশিক্ষণের প্রথম দিনের নির্ধারিত সেশনগুলোতে গ্রাম আদালতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। গ্রাম আদালতের শক্তি, কার্যকারিতা, এখতিয়ার, ক্ষমতা এবং বিচারযোগ্য বিষয়সমূহ নিয়ে সেশন পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এ্যান্ড অপস) যশোর মিরাজুল ইসলাম।
অন্যদিকে গ্রাম আদালতে আবেদন দাখিলের প্রক্রিয়া, আদালত গঠন, সদস্য মনোনয়ন, সমন জারি, প্রাক-বিচার কার্যক্রম, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া, বাস্তবায়য়ন প্রক্রিয়া এবং মামলার প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন যুব উন্নয়ণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জাকির হোসেন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক রফিকুল হাসান।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করেন গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পের জেলা ব্যবস্থাপক অ্যাডভোকেট মহিতোষ রায়। তিনি জানান, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে, যা গ্রাম আদালতের কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর করতে সহায়ক হবে।
আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত চলমান এ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের গ্রাম আদালত পরিচালনার বিভিন্ন আইনগত, প্রশাসনিক ও ব্যবহারিক বিষয় সম্পর্কে ভূমিকা অভিনয়ের মাধ্যমে হাতে-কলমে ধারণা প্রদান করা হবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।

