কাজী নূর
রতন সরকার স্বাস্থ্য বিভাগের একজন চাকুরে। শহরের বেজপাড়া বনানী রোড এলাকায় পরিবার নিয়ে তার বসবাস। শুক্রবার সকালে তিনি যশোরের হাজী মোহাম্মদ মহসিন রোড বড়বাজারে এসেছিলেন বাজার করতে। বাংলার ভোরের সঙ্গে আলাপকালে রতন সরকার জানান ‘কয়েক মাস যাবত নিত্যপণ্যের বাজার বেশ স্থিতিশীল রয়েছে বলে মনে করি।
তবে এ সময়ের মধ্যে দু একটি পণ্যের দাম ১/২ টাকা যেমন বেড়েছে, আবার কোনটায় উল্লেখযোগ্য অংকের কমেছে। যেমন আজ ব্রয়লার ১৬০ টাকা ও সোনালি মুরগি ২৯০ টাকা কেজি কিনেছি। আবার অল্প টাকায় আমার সবজির ব্যাগ ভর্তি হয়ে গেছে। বাজার ঘুরলে আপনি এসবের সত্যতা পাবেন।’
কথা হয় মুঠোফোন ব্যাংকিং নগদ এর ব্যবস্থাপক এমদাদুল হক সোহেলের সঙ্গে। এমদাদুল হক সোহেল বাংলার ভোরকে বলেন, ‘আজ ভোজ্যতেল ২০৩ টাকা কেজি ও ডিম ৩৪ টাকা হালি কিনেছি। সরকারি পর্যবেক্ষণের কারণে এসব সম্ভব হয়েছে। ফড়িয়া বা লুটেরা বাজারে কোন সুবিধা করতে পারছে না। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতি সাধুবাদ জানিয়ে এমদাদুল হক সোহেল আরো বলেন, নিয়মিত বাজার পর্যবেক্ষণ ব্যহত হলে ফের বাজার চলে যাবে লুটেরাদের হাতে।’
রতন সরকার, এমদাদুল হক সোহেল, পার্থ ডি রোজারিও, পলাশ গমেজের কথার সূত্রে বাজারের কালীবাড়ি রোড ও নিচের বাজার সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে বর্তমানে মানভেদে পটল কেজি প্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা, ঢেড়স ২০ থেকে ২৫ টাকা, ধুন্দল ২০ টাকা, পুঁইশাক ২০ থেকে ৩০ টাকা, পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকা, কুশি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ঝিঙে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, করলা ৩০ থেকে ৪০ টাকা, শষা ৩০ থেকে ৫০ টাকা, বেগুন ৫০ থেকে ১০০ টাকা, কাঁচা কলা ৩০ থেকে ৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৬০ থেকে ৮০ টাকা, মানকচু ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বরবটি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়ো ৪০ টাকা, কচুরমুখি ৪০ থেকে ৬০ টাকা, কচুর লতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, আমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা, উচ্ছে ৬০ টাকা, ডাটা ৩০ টাকা, সবুজ শাক ৪০ টাকা, ওল ১০০ টাকা, কাকরোল ৬০ টাকা, টমেটো ১০০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা, ফুলকপি ১০০ টাকা ও বাঁধাকপি ৬০ টাকা বিক্রি হয়েছে।
এছাড়া আকারভেদে লাউ ৪০ থেকে ৫০ টাকা ও চাল কুমড়ো ৩০ টাকা পিস বিক্রি হয়েছে।
সবজি বিক্রেতা জসিম উদ্দিন বলেন, আজ সবরকম সবজির দাম ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। দাম বৃদ্ধির কারণকে বর্ষায় চাষিরা হাটে মাল কম ওঠাবার কারণকে দায়ি করে জসিম উদ্দিন আরো বলেন, এটি ক্ষণস্থায়ী; কাল পরশু দাম কমে যাবে। কারণ বিভিন্ন সবজিতে ভর্তি হয়ে আছে মাঠের পর মাঠ।
সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের সামনে রুপকথার গলির বাসিন্দা হায়দার গোলাম কিবরিয়া বলেন, সবকিছু মোটামুটি নাগালের মধ্যেই আছে। তবে হিসেব করে তো আর বাজার হয় না। খেতেও হবে, বাঁচতেও হবে।
মুরগির বাজার ঘুরে দেখা গেছে বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি ১৬০ টাকা, সোনালি ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা ও লেয়ার ৩৫০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে।
জানতে চাইলে নিচের বাজারের বিসমিল্লাহ ব্রয়লার হাউজের স্বত্বাধিকারী জাকির হোসেন লিটন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, গোটা বাজারে একমাত্র আমার দোকানে সব জাতের মুরগি সীমিত লাভে বিক্রি করছি। লাভ কম বিক্রি বেশি এটা আমাদের পলিসি।
মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে বর্তমানে ২ কেজি সাইজের রুই মাছ ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা, আড়াই থেকে ৩ কেজি সাইজের কাতলা ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকা, বাগদা চিংড়ি ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা, হরিণা চিংড়ি ৮০০ থেকে ৮৮০ টাকা, টেংরা ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, শোল ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা, কৈ ১৮০ থেকে ২৩০ টাকা, নাইলোটিকা ১৬০ থেকে ২২০ টাকা, পাঙাশ ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, পাবদা ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা ও বাটা মাছ ১৪০ থেকে ২০০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে।
মাছ বিক্রেতা শুভ বিশ্বাস বলেন, আজ বাজার একটু খারাপ। তবে মাছের সরবরাহ বেশ।
শহরের রবীন্দ্রনাথ সড়কের বাসিন্দা ব্যাংকার রাশেদ মেহেদী হাসান বলেন, গত শুক্রবারে মাছের দাম বেশি ছিল। আজো বেশি তবে গতদিনের তুলনায় কিছুটা কম।
গরু ও খাসির মাংসের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে গরুর মাংস কেজি প্রতি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা ও খাসির মাংস ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা বিক্রি হয়েছে।
চালের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে সুপার মিনিকেট চাল কেজি প্রতি ৫৮ থেকে ৬০ টাকা, কাজললতা ৪৯ টাকা, বাসমতি ৭৬ থেকে ৭৮ টাকা, পাইজাম ৪৯ টাকা, স্বর্ণা ৫২ থেকে ৫৩ টাকা, আটাশ ৫২ থেকে ৫৪ টাকা, মোটা ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, বিল আমন ৬০ টাকা ও নাজিরশাইল ৮৫ থেকে ৮৮ টাকা বিক্রি হয়েছে।
চাল বিক্রেতা আলম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী বদরুল আলম জানান, আপাতত দাম বৃদ্ধির কোন আশংকা নেই। বরং আরো কিছুটা কমতে পারে অথবা স্থিতিশীল থাকবে।
মুদিপণ্যের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে খোলা সয়াবিন তেল কেজি প্রতি ২০৪ থেকে ২০৭ টাকা, সরিষার তেল ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, পাম তেল থেকে ১৮৫ টাকা, পোলাও চাল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, আটা ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, ময়দা ৫৫ থেকে ৫৭ টাকা, মুগ ডাল ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা, মসুরির ডাল ১০০ থেকে ১৬০ টাকা, ছোলার ডাল ৯০ থেকে ১০০ টাকা, বুটের ডাল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, সাদা চিনি ১০৫ টাকা, লাল চিনি ১২০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। এছাড়া আলু ২৫ টাকা, পেঁয়াজ ৩৫ টাকা, আদা ১৬০ থেকে টাকা ও রসুন ৮০ থেকে ১১০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে।
মুদিপণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান গোহাটা রোডের মেসার্স পাল স্টোরের স্বত্বাধিকারী গোবিন্দ পাল বলেন, বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। আপাতত কোন কিছুর দাম বৃদ্ধির আশংকা নেই।
ডিমের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে লাল ডিম হালি প্রতি ৩৪ থেকে ৪০ টাকা, সাদা ডিম ৩২ টাকা, হাঁসের ডিম ৬০ টাকা, দেশি মুরগির ডিম ৭০ টাকা ও কোয়েল পাখির ডিম ১২ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
ডিম পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান শহরের খালধার রোডের আনিছ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, বর্তমানে উৎপাদন খরচের চেয়ে অনেক কম দামে ডিম বিক্রি হচ্ছে। এতে করে ছোট খামারিরা একদম শেষ হয়ে যাবে। বেকার হয়ে পড়বে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত প্রান্তিক পর্যায়ের বহু মানুষ। তাই এ শিল্পকে বাঁচাতে দ্রুত সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

