নিজস্ব প্রতিবেদক, ডুমুরিয়া
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় চলতি বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবেলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসনের দাবি, পানি নিস্কাশন, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা এবং দুর্যোগ প্রস্তুতির কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মৌসুমের শুরুতে ভারি বর্ষণে কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিলে দ্রুত পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা নেয়া হয়। পাশাপাশি কর্মহীন ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে জরুরি খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হচ্ছে। সম্ভাব্য জলাবদ্ধ এলাকা চিহ্নিত করে আগাম প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। উপজেলায় ২৫টি সাইক্লোন সেন্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। দুর্যোগকালীন উদ্ধারকাজে ফায়ার সার্ভিসকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে স্বেচ্ছাসেবক দলও গঠন করা হয়েছে।
প্রশাসনের উদ্যোগে জলাবদ্ধতা নিরসনে একাধিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শোলমারিয়া স্লুইসগেটসহ কয়েকটি এলাকায় পলি অপসারণের কাজ চলছে। সরাফপুর ইউনিয়নের রতনখালী স্লুইসগেট ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেখানে জিও ব্যাগ দিয়ে অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া ভারি বর্ষণে শোলগাতিয়া ব্রিজ সংলগ্ন সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে দ্রুত সংস্কার করা হয়েছে।
বৃষ্টিতে সরাফপুর ইউনিয়নের কেয়াখালী গ্রামের সাইদুল ইসলাম ও মনিরুল ইসলামের পরিবারের ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা দেয়া হয় এবং ঘর পুনর্নির্মাণে সহায়তার আশ্বাস দেয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবিতা সরকার বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে যাতে মানুষের ক্ষয়ক্ষতি না হয়, সে লক্ষ্যে প্রশাসন কাজ করছে। সরকার নদী ও খাল খননের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় সব ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য প্রায় ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে কপোতাক্ষ নদ ও তৎসংলগ্ন জলাবদ্ধতা নিরসনের (২য় পর্যায়ের) (১ম সংশোধনী) প্রকল্পের ছয়টি নদী খননের কাজ চলমান রয়েছে। যে কারণে ভদ্রা নদীর অনেক জায়গায় বাঁধ দেয়ার কারণে ভারি বর্ষণে ভেড়িবাঁধের উপর দিয়ে পানি ঢুকছিল। পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খননকারী কতৃপক্ষ ও পাউবোর সাথে কথা বলে দ্রুত বাঁধ কেটে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়।

