অভয়নগর সংবাদদাতা :
যশোরের অভয়নগর উপজেলায় মাত্র আট ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অন্তত দুজন।
আকস্মিক এই প্রাণহানির ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং উপজেলার সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নিহতরা হলেন—অভয়নগর উপজেলার বুইকারা গ্রামের আব্দুল্লাহ আল আপন (২১), দেয়াপাড়া গ্রামের আব্দুস সমাদ বিশ্বাস (৫০) এবং একই গ্রামের আব্দুল ওহাব (৫৫)।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ দুর্ঘটনাটি ঘটে বুধবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে, উপজেলার নওয়াপাড়া ভৈরব সেতুসংলগ্ন এলাকায়। সকালে একটি ভ্যানে করে যাওয়ার সময় পেছন থেকে একটি দ্রুতগামী পরিবহন ভ্যানটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ভ্যানের দুই যাত্রী আব্দুস সমাদ বিশ্বাস ও আব্দুল ওহাব গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা তাদের দ্রুত উদ্ধার করে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন। এর আগে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাত ১২টার দিকে যশোর-খুলনা মহাসড়কের প্রেমবাগ উড়োতলা (চেঙ্গুটিয়া) এলাকায় মর্মান্তিক এক মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহত তরুণের স্বজন ও পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাত নয়টার দিকে প্রতিবেশী হোসেন আলীকে (৩০) সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে ঘুরতে বের হয়েছিলেন ২১ বছর বয়সী তরুণ আব্দুল্লাহ আল আপন। রাত ১২টার দিকে প্রেমবাগ উড়োতলা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী ট্রাকের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ছিটকে পড়ে মোটরসাইকেলচালক আপন ও তার সঙ্গে থাকা হোসেন আলী মারাত্মক আহত হন।
স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল আপনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, অবস্থার অবনতি হওয়ায় গুরুতর আহত হোসেন আলীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছে।
নওয়াপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম দুর্ঘটনা দুটির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে হাইওয়ে পুলিশ ও প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করছে। মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং দ্রুতগতির যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে,মাত্র আট ঘণ্টার ব্যবধানে একই উপজেলায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় তাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ার ঘটনায় শোকাহত স্বজনদের আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশের পরিবেশ।
সেই সঙ্গে যশোর-খুলনা মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে স্পিডব্রেকার স্থাপন, ট্রাফিক নজরদারি বৃদ্ধি এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
