♦ রাস্তা রক্ষার সরকারি স্লাব তুলে বাড়িতে নেওয়ার অভিযোগ; ইউএনওর অনুমতির কথা বললেও তা অস্বীকার প্রশাসনের, তদন্তে উপজেলা প্রকৌশলী
বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোরের অভয়নগরে রাস্তা সংরক্ষণ কাজে ব্যবহৃত সরকারি মালামাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে নওয়াপাড়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি পিয়ার আলী শেখের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, কোনো ধরনের সরকারি অনুমতি বা নিয়ম-নীতি ছাড়াই দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তিনি রাস্তার প্যালা সাইডিং (ঢালাই স্লাব) সরিয়ে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান।
ঘটনাটি নওয়াপাড়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মহাকাল আমডাঙ্গা সড়কের তিন রাস্তার মোড় এলাকায়, মো. শাহিদুল ইসলামের বাড়ির পশ্চিম পাশে মৃত হান্নান মোল্যার ঘের সংলগ্ন স্থান থেকে ঘটে। অভিযুক্ত পিয়ার আলী শেখ একই এলাকার মৃত ঈমান আলি শেখের ছেলে এবং স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
এলাকাবাসীর দেওয়া লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৫ ও ৬ মার্চ দুপুরের দিকে রাস্তা সংরক্ষণের কাজে ব্যবহৃত রড দিয়ে তৈরি ঢালাই স্লাব (প্যালা সাইডিং) সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দা মনি মোড়লের সহযোগিতায় দিনমজুর রবিউল মোল্যা, গফুর, আদম ও মিজানুরকে দিয়ে এসব স্লাব তোলা হয়।
পরে মো. পিন্টু মোড়লের নছিমন দিয়ে ১৭ পিস এবং বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা শাহেদের নছিমন দিয়ে আরও ২২ পিস স্লাব পরিবহন করা হয়। সর্বমোট ৩৯ পিস স্লাব পিয়ার আলী শেখের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, এসব স্লাব নিজের বসতবাড়ির উঠান পাকা করার কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল। ঘটনার সময় উপস্থিত কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সরকারি মালামাল সরানোর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সহযোগী মনি মোড়ল উপস্থিত লোকজনকে বলেন, “ইউএনও সাহেবের অনুমতি আছে।”
তবে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।
অভিযোগ জানাজানি হলে স্লাব সরানোর চেষ্টা
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর পিয়ার আলী শেখ দ্রুত স্লাবগুলো নিজের বাড়ি থেকে সরিয়ে উজ্জ্বল কুন্ডুর বাড়ির ড্রেনের ওপর ঢেকে রাখেন, যাতে দেখে মনে হয় সেগুলো আগে থেকেই সেখানে ছিল। স্থানীয়রা এটিকে প্রমাণ গোপনের চেষ্টা বলে অভিযোগ করেছেন।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে পিয়ার আলী শেখ বলেন, “আমি স্লাবগুলো নিজের জন্য নেইনি। জনগণের কল্যাণে মহাকাল এলাকায় ড্রেনের ওপর ঢাকনি হিসেবে ব্যবহার করার জন্য এনেছি।”
তবে স্থানীয়রা তার এ বক্তব্যকে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালাউদ্দিন দিপু বলেন, “সরকারি সম্পত্তি নেওয়ার জন্য আমি কাউকে কোনো অনুমতি দিইনি। একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।”
উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের মালামাল যদি এভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হয়, তাহলে উন্নয়ন কার্যক্রম যেমন বাধাগ্রস্ত হবে, তেমনি জনগণের টাকায় কেনা সম্পদও লুটপাটের শিকার হবে। তাই দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

