বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
যশোরের শার্শা উপজেলার কন্যাদহ গ্রামে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার ও কন্যাদহ বাঁওড়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধের জেরে ককটেল বিস্ফোরণ ও শর্টগানের গুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে চারজন আহত হয়েছেন। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণে দুটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কন্যাদহ গ্রামের বিএনপি নেতা রেজাউল ইসলাম গাইনের লোকজনের সাথে বিরোধ চলছে উপজেলা বিএনপির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক শহিদ আলী এবং সদ্য বহিস্কৃত শার্শা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম শহিদের পক্ষের লোকজনের। স্থানীয় আধিপত্য ও বাঁওড়কে কেন্দ্র করে এ বিরোধের জেরে এর আগেও কয়েক দফা মারামারি ও বোমাবাজির ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) বিকেল ৫টার দিকে বড় শহিদের নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা ৫০ থেকে ৬০ জন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে কন্যাদহ গ্রামের গাইনপাড়ায় রেজাউল ইসলাম গাইনের বাড়ির সামনে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় তারা সেখানে ১০ থেকে ১২টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।
পরে রেজাউল ইসলাম গাইন পক্ষের লোকজন প্রতিরোধ করতে এগিয়ে এলে তাদের লক্ষ্য করে শর্টগান থেকে গুলি ছোড়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এরপর হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।
শর্টগানের ছররা গুলিতে শাহ আলম (৩৮), আবদুল্লাহ (৩২), বকুল (৩৪) ও বকুলের ছেলে শাখিল (১৫) আহত হন। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছররা গুলির আঘাত লাগে। পরে স্থানীয়ভাবে তাদের চিকিৎসা দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে ককটেল বিস্ফোরণে বাবু গাইন ও আনারুল নামে দুই ব্যক্তির বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে মশিয়ার মোড়ল (৫৬) নামে আরও একজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর কন্যাদহ এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তৎপর রয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক শহিদ আলী এবং সদ্য বহিস্কৃত শার্শা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম শহিদ ঘটনা অস্বীকার করেছেন।
শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ শামিনুল হক বলেন, “কন্যাদহ গ্রামে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।”
