বাংলার ভোর ডেস্ক :
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে মোট ৪২টি নির্বাচনি প্রতীক চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংশ্লিষ্ট পদ অনুযায়ী প্রার্থীদের জন্য আলাদা আলাদা প্রতীক নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের সই করা প্রজ্ঞাপনে চেয়ারম্যান পদে ২০টি, সাধারণ সদস্য পদে ১২টি এবং সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ১০টি প্রতীক নির্ধারণের কথা জানানো হয়েছে।
চেয়ারম্যান পদে নির্ধারিত প্রতীকগুলো হলো—কম্পিউটার, কলার ছড়ি, ঘণ্টা, ঘোড়া, চিংড়ি, জগ, টেবিল, টেবিলঘড়ি, টেলিফোন, দালান, দোতলা বাস, পাগড়ি, বেবিট্যাক্সি, ময়ূর, মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেল, মোড়া, রেল ইঞ্জিন, সোফা ও হাঁস।
অন্যদিকে, সাধারণ সদস্য পদে প্রার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে ১২টি প্রতীক। এগুলো হলো—উট, কাপ-পিরিচ, ঘুড়ি, জাহাজ, টর্চলাইট, টিউবওয়েল, ট্রাক্টর, তালা, ফুটবল, বৈদ্যুতিক পাখা, বৈদ্যুতিক বাল্ব ও মোরগ।
সংরক্ষিত নারী সদস্য পদের জন্য নির্ধারিত ১০টি প্রতীক হলো—আলমারি, কলস, ড্রেসিং টেবিল, পালকি, ফলের ঝুড়ি, মাইক, সেলাই মেশিন, সূর্যমুখী ফুল, হরিণ ও হেলিকপ্টার।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ইউপি নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ এ নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দল তাদের দলীয় প্রতীক নিয়ে প্রার্থী দিতে পারবে না। প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত প্রতীক নিয়েই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
এর আগে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হতো। ক্ষমতাসীন ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনীত প্রার্থীরা নিজ নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিতেন। তবে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের পর ইউপি নির্বাচনের বিধিমালা থেকে দলীয় প্রতীকের বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছে।
ফলে নতুন ব্যবস্থায় চেয়ারম্যানসহ ইউনিয়ন পরিষদের তিন ধরনের পদেই প্রার্থীরা নির্দলীয় পরিচয়ে নির্বাচনে অংশ নেবেন। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ৪২টি প্রতীকের মধ্য থেকেই প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।
ইউনিয়ন পরিষদ দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তর। স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিক সেবা, অবকাঠামো উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন কাজে ইউনিয়ন পরিষদের ভূমিকা রয়েছে। তাই আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে এরই মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
