মহেশপুর সংবাদদাতা
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত ভাত মুখে না তোলার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন মহেশপুরের নিজাম উদ্দিন (৬০)। প্রতিজ্ঞার প্রায় ১২ বছর পার হলেও ভাত খাননি বিএনপির এ সমর্থক। তবে বিএনপি ক্ষমতায় এলেও প্রতিজ্ঞা ভেঙে আর কখনো ভাত খাবেন না নিজাম উদ্দিন। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়নের মাথাভাঙ্গাপাড়ার নিজ বাড়িতে মারা যান তিনি। পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি ছিলেন তিনি। শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয় বিএনপির এ সমর্থককে।
স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা জানান, ২০১৪ সালে বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করছিলেন বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ সময় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসররা হামলা করে মৃত্যুবার্ষিকী পণ্ড করে দেন। লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেয়া হয় রান্না করা খিঁচুড়ি। ওই সময় শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত-অপমানিত হওয়া বিএনপির সমর্থক নিজাম উদ্দিন প্রতিজ্ঞা করেন বিএনপির সরকার ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত তিনি ভাত খাবেন না। এরপর থেকেই নানান সংগ্রামে কেঁটে গেছে প্রায় বারোটি বছর।
নিজাম উদ্দিনের ছেলে শাহ আলম বলেন, ২০২৫ সালে বাবা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। বাবার অসুস্থতার খবর পৌছায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কানে। এরপর অসুস্থ বাবার চিকিৎসার দায়িত্ব নেন তিনি। ঢাকা ও ফরিদপুরে উন্নত চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হলে বাবাকে বাড়িতে আনা হয়।
শ্যামকুড়ের ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম জানান, নিজাম উদ্দিন সম্পর্কে আমার ফুপা শ্বশুর হন। তিনি আমাদের বাড়িতে বেড়াতে গেলেও কখনো ভাত খাননি। তাই তার জন্য শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হতো।
উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, ৫ আগস্টের পর আমরা তাকে ভাত খাওয়ানোর চেষ্টা করি কিন্তু তিনি খাননি। তার একটায় কথা ছিলো বিএনপি ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত ভাত খাবেন না। তিনি একজন দলভক্ত মানুষ ছিলেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। উপজেলা বিএনপির নেতা-কর্মীরা সব সময় তার খোঁজ খবর নিয়েছেন। নিজাম উদ্দিনের মত একজন সমর্থকের মৃত্যুতে দলের অপূরণীয় ক্ষতি হলো।
