সাড়াতলা সংবাদদাতা
দারিদ্র্যতার সংসারে স্বচ্ছলতা আনতে উন্নত জীবনের আশায় স্বপ্নের দেশ মালয়েশিয়ায় গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন যশোরের শার্শার ডিহি ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের যুবক ইসমাইল হোসেন (৩৫)। মৃত্যুর ৭ দিন পর বুধবার রাতে মালয়েশিয়া হতে বিমানে ঢাকায় এসে পৌঁছায় তার লাশবাহী কফিন।
রাতেই স্বজনরা বিমানবন্দরের নানা কার্যক্রম শেষে তার মরদেহ ছাড় করিয়ে অ্যাম্বুলেন্সযোগে রওনা দিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে নিজ বাড়িতে এসে পৌঁছালে এক হৃদয় বিদারক আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয়। এ সময় পরিবার, আত্মীয় স্বজন ও প্রতিবেশীদের আর্তনাদ আর আহাজারিতে এলাকার বাতাস ভারি হয়ে উঠে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও প্রায় দেড় বছর বয়সী একমাত্র কন্যা সন্তান রেখে যান।
মরহুমের স্বজনরা জানান, অভাবের সংসারে কিছুটা স্বচ্ছলতা ফেরাতে ১০ বছর আগে মালয়েশিয়া যান ইসমাইল হোসেন (৩৫)। সেখানে তিনি পেনাং শহর এলাকায় একটি কোম্পানিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
সেখানেই একটি নির্মাণাধীন বহুতল ভবনের কাঁচি লিফট দ্বারা কাজরত অবস্থায় তিনি গত ৬ মে সোমবার সকাল ১০ টার দিকে কাঁচির লিফট ছিড়ে নিচে পড়ে মারাত্মকভাবে আহত হন। তার সহকর্মীরা তাকে আহত অবস্থায় দ্রুত উদ্ধার করে সেখানকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মে বুধবার ইসমাইল হোসেন মারা যান।
কোম্পানির মাধ্যমে সকল কার্যক্রম সম্পন্ন হলে বুধবার রাতে মালয়েশিয়া হতে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ইসমাইল হোসেনের লাশবাহী কফিন ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। রাতেই স্বজনরা বিমানবন্দর থেকে তার মরদেহ ছাড় করিয়ে অ্যাম্বুলেন্সযোগে রওনা দিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে মৃত্যুর ৭ দিন পর লাশবাহী কফিন নিজ বাড়িতে এসে পৌছালে এক আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয়।
এ সময় পরিবার, আত্মীয় স্বজন ও প্রতিবেশীদের আর্তনাদ আর আহাজারিতে এলাকার বাতাস ভারি হয়ে উঠে। পরে সকাল ১০ টার দিকে বেদনাবিধূর পরিবেশে নিজ বাড়িতে মরহুমের জানাজা নামাজ শেষে স্বজনদের অশ্রুসজল নয়নে পারিবারিক কবর স্থানে মরদেহ দাফন করা হয়।

