বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
সারাদেশের সঙ্গে একযোগে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠভাবে শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষার মধ্যমে এ বোর্ডের আওতাধীন ২৪০ টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমদিনে নকলের দায়ে ঝিনাইদহ জেলার বারোবাজার কেন্দ্রের দুই পরীক্ষার্থীকে বহিষ্ক্রা করা হয়েছে।
একই সঙ্গে প্রথম দিন পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল ২ হাজার ৭৮ জন শিক্ষার্থী। এদিকে পাঁচ বছর পর পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস ও অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ছিল বাড়তি আগ্রহের পাশাপাশি কিছুটা উদ্বেগও।
যশোর শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এবার বোর্ডের অধীনে ৫৭০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এক লাখ ১৭ হাজার ১৭৭ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের ২২ হাজার ৭২৩ জন, মানবিকের ৮১ হাজার ৬৯০ জন ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১২ হাজার ৪৯৪ জন। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে নিয়মিত ৮০ হাজার ৩৬৫জন ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থী ৩১ হাজার ১২০ জন এবং জিপিএ উন্নয়ন পরীক্ষার্থী ৯১৭ জন ও প্রাইভেট পরীক্ষার্থী ৪২ জন রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার পরীক্ষার্থী বেড়েছে মাত্র ৩৬৮ জন।
এ বোর্ডের অধীনে ২৪০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩০টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন যশোর জেলা শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা। ফলে বোর্ডের কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে প্রতিটি কেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
প্রথম দিনের পরীক্ষায় ঝিনাইদহ জেলার একটি কেন্দ্রে নকল করার অভিযোগে দুই পরীক্ষার্থীকে বহিস্কার করেন সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র সচিব।
শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, জেলাভিত্তিক উপস্থিতির চিত্রে খুলনায় ১৬ হাজার ৭১৮ জন,বাগেরহাটে ৫ হাজার ৭১৫ জন,সাতক্ষীরায় ৯ হাজার ২৬৬ জন, কুষ্টিয়ায় ১১ হাজার ২৮২ জন,চুয়াডাঙ্গায় ৫ হাজার ৬০২ জন,মেহেরপুরে ২ হাজার ২৭০ জন, যশোরে ১৫ হাজার ১৯৪ জন, নড়াইলে ৩ হাজার ৪৭৭ জন,ঝিনাইদহে ১ হাজার ৪৬৮ জন এবং মাগুরায় ৪ হাজার ৭১৪ জন শিক্ষার্থী প্রথম দিনের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এছাড়া শিক্ষা বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, বিভিন্ন কারণে নির্ধারিত ২ হাজার ৭৮ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল।
এদিকে পরীক্ষার কেন্দ্রগুলোতে নির্ধারিত সময়ের আগেই অধিকাংশ শিক্ষার্থী কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয়। তবে কয়েকটি কেন্দ্রে প্রবেশের আগে কাটাওয়ালা ঘড়ি নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। প্রবেশ মুখে কর্তব্যরতরা প্রথমে এসব হাতঘড়ি নিয়ে পরীক্ষার্থীদের প্রবেশ করতে দেননি। এ কারণে অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে কেন্দ্র সচিবের হস্তক্ষেপে কাটাওয়ালা ঘড়ি নিয়ে পরীক্ষা কক্ষে যান শিক্ষার্থীরা।
এদিকে পাঁচ বছর পর এবার পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস ও অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হওয়ায় শিক্ষার্থীরা শুরুতে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেন। তবে অভিন্ন প্রশ্নপত্রের পরীক্ষায় মেধার যথাযথ মূল্যায়ন হবে বলে মনে করছেন অনেক শিক্ষার্থী।
অভিভাবকদের একাংশ বলেন, দীর্ঘসময় সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পড়াশোনা চলায় শিক্ষার্থীদের পূর্ণ সিলেবাসে মানিয়ে নিতে বাড়তি চাপ নিতে হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্য আরও কিছু সময় পেলে মানসিকভাবে স্বস্তিতে থাকা যেত।
এদিকে পরীক্ষা চলাকালীন সময় যশোরের বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ফারুখে আযম মো. আব্দুস ছালাম। তিনি কেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া পরীক্ষা গ্রহণের প্রক্রিয়া নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য বোর্ড কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের সমন্বয়ে বেশ কয়েকটি ‘র্যাপিড ভিজিল্যান্স টিম’ গঠন করা হয়েছে।
পরীক্ষা চলাকালে যাতে কোনো ধরনের অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি কেন্দ্রে কক্ষভিত্তিক সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, যাতে কোনো অনিয়ম হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া যাবে বলেও তিনি জানান।
