বাংলার ভোর প্রতিবেদক
ঈদুল আজহার ছুটিতে এক সপ্তাহ ধরে ময়লা অপসারণ কার্যক্রম বন্ধ থাকায় তীব্র দুর্গন্ধে সোমবার দুপুর পর্যন্ত ভরা ছিল যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও আশপাশের এলাকায় জমে থাকা বর্জ্য থেকে ছড়ায় অসহনীয় দুর্গন্ধ। এতে রোগী, তাদের স্বজন এবং হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
সোমবার সকালে হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়,দুর্গন্ধের কারণে রোগী ও স্বজনরা অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন। অনেককে নাক চেপে বসে থাকতে দেখা গেছে। কয়েকজন রোগী ও স্বজন জানান, ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে ময়লা আবর্জনা হাসপাতাল চত্বর থেকে অপসারণ করা হয়নি। প্রায় সাত দিন ধরে বর্জ্যের দুর্গন্ধে ওয়ার্ডে অবস্থান করাই কষ্টকর হয়ে পড়েছে তাদের।
শহরতলীর খোলাডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা এক রোগীর স্বজন মেহেদী হাসান জানান, কয়েক দিন ধরে হাসপাতালের ময়লার ড্রাম পরিষ্কার করা হয়নি। দুর্গন্ধের কারণে রোগী নিয়ে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে।
হাসপাতালারে সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা হাবিবুর রহমান জানান, ঈদের দুই দিন আগে নিজ বাড়ির লিচু গাছ থেকে লিচু পড়ার সময় গাছের ডাল ভেঙে নিচে পড়ে আহত হয়ে এখানে ভর্তি হয়েছেন তিনি। কিন্তু ঈদের ছুটির পর থেকে বর্জ্য অপসারণ বন্ধ থাকায় দুর্গন্ধে আরও কষ্ট হচ্ছে তার। অসুস্থ শরীর নিয়ে এই পরিবেশে থাকা খুবই কষ্টকর বলে দাবি করছেন তিনি।
এই ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা আরেক রোগীর স্বজন রাশিদা বেগম বলেন,রোগী নিয়ে এখানে আছি। কিন্তু দুর্গন্ধের কারণে খাওয়া-দাওয়া পর্যন্ত ঠিকমতো করা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে হাসপাতালের একাধিক কর্মচারীর সাঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদের ছুটির কারণে প্রায় এক সপ্তাহ পৌরসভার বর্জ্য অপসারণের গাড়ি হাসপাতালে আসেনি। ফলে ডাস্টবিনে জমে থাকা বর্জ্য উপচে পড়ে এবং নতুন বর্জের সঙ্গে মিশে দুর্গন্ধ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার কাজল বলেন, সাধারণত সপ্তাহে তিন দিন পৌরসভার গাড়ি এসে বর্জ্য নিয়ে যায়। কিন্তু ঈদের ছুটিতে কোন গাড়ি না আসায় পুরো বর্জ্য জমে গেছে। এ কারণে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এখানে দুই ধরনের বর্জ্য উৎপন্ন হয়। একটি সাধারণ গৃহস্থালি বর্জ্যের এবং অন্যটি মেডিকেল বর্জ্য। তবে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকলেও খাবার ও পচনশীল বর্জ্য দীর্ঘ সময় পড়ে থাকলে দ্রুত দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হুসাইন শাফায়েত বলেন, হাসপাতালের ডাস্টবিনে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ফেলা হয়। নিয়মিত অপসারণ না হলে দুর্গন্ধ হওয়া স্বাভাবিক। ঈদের ছুটির কারণে এক সপ্তাহ পৌরসভার লোকজন আসেনি। পরে বিষয়টি জানালে বিকেলে তারা এসে বর্জ্য নিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, হাসপাতালের পাশের স্টাফ কোয়ার্টার থেকেও গৃহস্থালি বর্জ্য হাসপাতালের বর্জ্যের সঙ্গে মিশে পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছে।
এদিকের বিষয়টি অস্বীকার করছেন পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা উত্তম কুমার কুন্ডু। তিনি জানান, বর্জ্য অপসারণে প্রতিদিন পৌরসভার গাড়ি চলছে। ঈদের ছুটিতে একদিন বন্ধ ছিলো। ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকেই আবার শুরু হয়েছে বর্জ অপসারণের কাজ।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ছুটির সময়েও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়মিত রাখা জরুরি। না হলে এমন পরিস্থিতিতে রোগীদের দুর্ভোগ আরও বাড়ে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
স্থানীয়দের মতে, শুধু ব্যবস্থাপনার ঘাটতি নয়, সমন্বয়ের অভাবও এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। তারা দ্রুত স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন ভোগান্তি আর না হয়।

