বাংলার ভোর প্রতিবেদক
চলমান এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের হলে প্রবেশের সময় কাটাযুক্ত ঘড়ি ও ক্যালকুলেটর ব্যবহারের বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডের প্রজ্ঞাপন থাকলেও মাঠ পর্যায়ে তা বাস্তবায়নে সমন্বয়হীনতা দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা ও কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রমের মধ্যে এই অমিলকে ঘিরে তৈরি হয়েছে পরীক্ষার্থী ও অভিবাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। অভিভাবকদের অভিযোগ প্রজ্ঞাপন জারি হলেও তা বাস্তবায়ন হচ্ছেনা।
বৃহস্পতিবার সারাদেশে বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষার অনুষ্ঠিত হয়। তবে প্রথম দিনের মতো দ্বিতীয় দিন দিনেও একই চিত্র দেখা গেছে। অনেক কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের কাটাযুক্ত ঘড়ি নিয়ে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। অথচ এ বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি কেন্দ্রগুলোতে।এ নিয়ে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। তাদের অভিযোগ কেন্দ্রীয় নির্দেশনা থাকলেও মাঠ পর্যায়ে তা মানা হচ্ছে না।
এ বিষয়ে একাধিক কেন্দ্র সচিব জানিয়েছেন, তারা এখনো বোর্ড থেকে কোনো নির্দেশনা পাননি। ফলে কেন্দ্রগুলো নিজস্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছেন। তাদের মতে, নির্দেশনা স্পষ্ট ও এককভাবে না আসায় তারা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। পরীক্ষায় শৃঙ্খলা ও নকল রোধ নিশ্চিত করতেই এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
এদিকে এদিন যশোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান ফটকে পরীক্ষার্থীদের সাঙ্গে আনা ঘড়ি জব্দ করে রেখেছেন দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা।
এ সময় কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা কেন্দ্র সচবি নুরুল ইসলাম জানান, বোর্ড কর্তৃপক্ষ এখনো তাদের কোন নির্দেশনা দেননি। এ কারণে তারা ঘড়ি নিয়ে কোন পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেননি।
একই চিত্র দেখা গেছে শহরের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও। সেখানকার কেন্দ্র সচিবরা জানিয়েছেন, বোর্ড থেকে তারা কোন লিখিত নির্দেশনা পাননি। এমনকি বোর্ডের ওয়েবসাইটে নোটিশ থাকলেও সে বিষয়ে অনেকেরই পরিস্কার ধারণা নেই।
তবে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের মোসাম্মৎ আসমা বেগম জানান, এ বিষয়ে সব কেন্দ্রেই আগেই প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তার মতে, নির্দেশনা অনুযায়ীই সব কেন্দ্রের কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার কথা ছিল।
অন্যদিকে যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. আব্দুল মতিন জানান, ঢাকা বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরীক্ষা শুরুর আগেই যশোর শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে নোটিশ প্রকাশ করা হয়েছে।
এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় নির্দেশনা ও মাঠ পর্যায়ের বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে এই সমন্বয়হীনতা পরীক্ষার পরিবেশে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। একেক কেন্দ্রে একেক ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়ায় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি আরও বেড়েছে।
অভিভাবকরা বলছেন, বোর্ডের ওয়েবসাইটে নোটিশ থাকলেও তা যথাযথভাবে কেন্দ্র পর্যায়ে পৌঁছায়নি। ফলে শিক্ষার্থীরা ঘড়ি নিয়ে কেন্দ্রে এসে সমস্যার মুখে পড়েছে, যা তাদের জন্য বাড়তি ভোগান্তি তৈরি করে।
অন্যদিকে পরীক্ষার্থীরা বলছেন, পরীক্ষার সময় তাদের হাতে ঘড়ি থাকা অত্যন্ত জরুরি। দেয়ালে ঘড়ির ওপর নির্ভর করতে গিয়ে সময় নষ্ট হয়।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, শুধু নির্দেশনা জারি করাই যথেষ্ট নয়, তা সঠিকভাবে মাঠ পর্যায়ে পৌঁছানো এবং একইভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় এ ধরনের সমন্বয়হীনতা পরীক্ষার্থীদের ফলাফলের ওপর প্রভাব ফেলবে।

