বাংলার ভোর প্রতিবেদক
সাতক্ষীরা কলারোয়া উপজেলার গয়ড়া বাজারে অবস্থিত অনুমোদিতহীন আছিয়া মেমোরিয়াল নার্সিংহোম ক্লিনিকে নিয়মিত চলছে প্রসূতি নারীর সিজারিয়ান অপারেশন, অ্যাপেন্ডিক্স ও পিআইডির মত গুরুতর অপারেশন।
রুগীদের অপারেশন করতে বিভিন্ন জায়গা থেকে ভাড়া করে আনা হয় ডাক্তার। আর প্রেসক্রিপশন করেন ক্লিনিকটির পরিচালক হাতুড়ে ডাক্তার রমজান আলী নিজেই।
ছাড়পত্রের আগমুহূর্ত পর্যন্ত অপারেশন করা সেই ডাক্তারের সাথে দেখা হয় না রুগীদের। অপারেশন করা রুগীদের ইমারজেন্সি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে নার্স অথবা ওয়ার্ড বয়রা দেন চিকিৎসা।
এছাড়াও ক্লিনিকের নাম ব্যবহার করা হয় আছিয়া মেমোরিয়াল নার্সিং হোম। কিন্তু ক্লিনিকের ফটকে নাই কোন বৈধ সাইনবোর্ড। ধারণা করা হচ্ছে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে এই কৌশল অবলম্বন করেছে ক্লিনিক মালিক।
সরকারি নীতিমালা অনুসারে ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিস সেন্টারে আধুনিক যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষিত নার্স, ও দক্ষ টেকনোশিয়ানসহ সার্বক্ষণিক ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও সে নিয়ম মামা হচ্ছে না এখানে।
যা শিকার করেছেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক রমজান আলী। আবার প্রতিবেদকের ক্যামেরার সামনে সব জায়গায় নাকি এভাবে ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টার চলছে বলে দাবি করেন রমজান আলী।
এ সকল নামসর্বস্ব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিস সেন্টারগুলোতে চিকিৎসা নিতে এসে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। সচেতন মহলের দাবি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি সঠিক নজরদারি করতেন তাহলে অবৈধ ক্লিনিক- ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে তুলতে পারতেন না সংশ্লিষ্টরা।
মানুষের মৌলিক চাহিদারগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে চিকিৎসা সেবা। সেই মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশাপাশি গড়ে উঠেছে অসংখ্য প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার।
এর মধ্যে গয়ড়া বাজারের মত মফস্বল বাজারে বেশ কয়েকটি ক্লিনিক- ডায়াগনস্টিস সেন্টার, সেগুলো অধিকাংশ মানহীন। নেই নিজস্ব ডাক্তার, নেই পরিশিক্ষিত নার্স ও দক্ষ টেকনোশিয়ান।
এভাবেই নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই উল্টো পথে চলছে কলারোয়ার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা।
এ বিষয়ে কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, অনুমোদনহীন বা লাইসেন্সবিহীন ক্লিনিকে কোনো ধরনের অপারেশন করা সম্পূর্ণ বেআইনি, এবং দণ্ডনীয় অপরাধ।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী, বৈধ অনুমোদন ও সঠিক অ্যানেস্থেশিয়া ব্যবস্থা ছাড়া ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অস্ত্রোপচার করা যাবে না।
যদি নির্দেশনা অমান্য করে তবে ঐ ক্লিনিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
