কেশবপুর সংবাদদাতা
যশোরের কেশবপুরে রোকেয়া বেগম (৪৫) নামে এক পথচারী নারীকে চাপা দেয়ার পর এতিমখানায় ঢুকে যায় একটি বাস। শুক্রবার ভোরে যশোর-সাতক্ষীরা সড়কের উপজেলার মধ্যকুল উত্তরপাড়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওই নারীর মৃত্যু হয়।
তবে মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ফজরের নামাজ আদায়ের জন্য পাশের মসজিদে অবস্থান করায় বড় ধরনের প্রাণহানি থেকে রক্ষা পান তারা।
নিহত রোকেয়া বেগম উপজেলার মধ্যকুল গ্রামের রেজাউল ইসলামের স্ত্রী। পরিবারের সদস্যরা জানান, ফজরের নামাজের পর সকালে হাঁটতে বের হয়েছিলেন রোকেয়া।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিনের মতো শুক্রবার ভোরে হাঁটতে বের হন রোকেয়া খাতুন। তিনি যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের মধ্যকুল কালিতলা এলাকায় পৌঁছালে স্টার ডিলাক্স পরিবহণের একটি বাস তাকে চাপা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে নিয়ন্ত্রণ হারানো পরিবহনটি মহাসড়কের পাশের হাফিজিয়া মাদ্রাসার ভেতরে ঢুকে পড়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকাল ছয়টার দিকে যাত্রীবিহীন বাসটি যশোরের দিকে যাওয়ার পথে মধ্যকুল উত্তরপাড়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার সামনে গিয়ে সড়কের বাঁ পাশে থাকা পথচারী রোকেয়া বেগমকে চাপা দেয়। এরপর বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ডান পাশে ওই এতিমখানা ভবনের সামনের অংশে ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে।
এ সময় বাসচালকের সহকারী মানিক ফকির আহত হন। তাকে উদ্ধার করে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। দুর্ঘটনার পরপর বাসের চালক পালিয়ে যান। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। দুর্ঘটনার কারণে কিছু সময়ের জন্য ওই এলাকায় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।
মধ্যকুল উত্তরপাড়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার পরিচালক গোলাম মোস্তফা গণমাধ্যমকে বলেন, বাসটি তাঁদের মাদ্রাসা ও এতিমখানার সামনের অংশ ভেঙে ভেতরে ঢুকে যায়। এ ঘটনায় তাদের কেউ হতাহত না হলেও অনেক ক্ষতি হয়েছে।
কেশবপুর থানার উপপরিদর্শক মিনারা খাতুন বলেন, এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি।
