বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোর উপশহরের জামালুল কুরআন হিফজ মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক হাফেজ মাওলানা শামছুর রহমানের ওপর পরিকল্পিত মব হামলার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৫ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নিজ সন্তানকে মাদ্রাসায় খাবার দিয়ে ফেরার পথে তিনি এ হামলার শিকার হন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি কয়েকদিন আগে জামিনে মুক্ত হয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক পোস্ট দেয়। পরে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল মব সৃষ্টি করে হাফেজ মাওলানা শামছুর রহমানের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা “লীগ ধর, জেলে ভর” স্লোগান দিতে থাকে।
অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট বলে ট্যাগ দিয়ে তাকে মারধর করা হলেও বাস্তবে তিনি কখনোই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তিনি যশোরের শেখহাটি এলাকার একটি হাফেজি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন এবং একই সঙ্গে হুফফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশন যশোর জেলা শাখার সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এ বিষয়ে খেলাফত মজলিস যশোর নগর কমিটির সভাপতি হাফেজ মাওলানা আবদুর রহমান বলেন, মাওলানা শামছুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে খেলাফত মজলিসের একজন সক্রিয় কর্মী। তিনি নগর কমিটির সহকারী সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করছেন এবং নিয়মিত সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেন। আওয়ামী লীগের ট্যাগ দিয়ে তার ওপর মব সৃষ্টি করে যে ন্যাক্কারজনক হামলা চালানো হয়েছে, আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। তিনি আরও জানান, হামলার পেছনে পূর্বের একটি পারিবারিক ও আইনি বিরোধ রয়েছে।
জানা গেছে, যশোরের ইছালি ইউনিয়নের কুতুবপুর গ্রামের একটি মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির হিসাব সংক্রান্ত অনিয়মের ঘটনায় ২০২০ সালে দুর্নীতিবিরোধী সচেতন নাগরিকদের পক্ষ থেকে একটি মামলা হয়। ওই মামলার বাদী ছিলেন মাওলানা শামছুর রহমান। মামলার অন্যতম আসামি শোয়াইব সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পান। অভিযোগ অনুযায়ী, জামিনে বের হয়েই তিনি সন্ত্রাসী গ্রুপ সংগঠিত করে হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন।
হামলার সময় স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর আহত অবস্থায় হাফেজ মাওলানা শামছুর রহমানকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, এরপরও কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে হামলাকারীরা থানার ভেতর পর্যন্ত গিয়ে মব সৃষ্টি করে।
পরবর্তীতে একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় হাফেজ মাওলানা শামছুর রহমানকে গ্রেফতার দেখানো হয়। বর্তমানে তিনি জেল হাজতে রয়েছেন। তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে পরিবার ও সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রকৃত দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
