জীবননগর সংবাদদাতা
চুয়াডাঙ্গার জীবননগওে আটকের পর সেনাবাহিনীর হেফাজতে থাকা অবস্থায় পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলুর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা টায়ার জ্বালিয় ও সড়কে গাছ ফেলে অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে।
জানা গেছে সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাত ১০ টার দিকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে শামসুজ্জামান ডাবলুকে আটকের পর সেনা হেফাজতে নেয়া হয়। তার কিছুক্ষণ পরে জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় জীবননগর উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, আটকের পর সেনাবাহিনীর সদস্যরা তার উপর নির্যাতন চালিয়েছেন এবং তারই একপর্যায়ে মারা যায় শামসুজ্জামান ডাবলু।
সংবাদ শুনেই চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং সেই সঙ্গে আইন হাতে তুলে না নেয়া এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন।
এই বিষয়ে সেনাবাহিনীর নিকট থেকে কোনো অফিসিয়াল বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
বিএনপি নেতার মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। জীবননগর পৌরসভা এলাকায় এখন উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
এরপর মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল থেকেই বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা হাসপাতাল গেটের সামনে ভিড় করতে থাকে। পরবর্তীতে নিহত ডাবলুর মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশ্যে রওনা দিতে গেলে ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা হাসপাতালের মুলগেট আটকিয়ে দেয় সেই সাথে সড়কে কাঠ ফেলে অবরোধ করে। তারা জানান সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সুস্পষ্ট বক্তব্য এবং তার হত্যা দায় স্বীকার করে নিলে আমরা মৃতদেহ ছাড়বো আর তা না হলে ছাড়বো না।
এরপর চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন, পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু, সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান শরীফ জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে উপস্থিত হয় এবং বিএনপি’র নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিহত ডাবলুর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা মর্গে পাঠানো হয় সেই সাথে অবরুদ্ধ সেনাবাহিনী সদস্যদেরকে উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন জানান, আমরা ময়নারতদন্ত করে সঠিক তথ্যর উপর ভিত্তি করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করব।
পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি সত্যি ন্যাক্কারজনক তবে যদি এটি হত্যাকাণ্ড হয় তবে পুলিশের তরফ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা থাকবে।
এদিকে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি পক্ষকে রাজি খুশি করা এবং তাদের উদ্দেশ্য সফল করার জন্য সেনাবাহিনী তাদের দলীয় নেতাকর্মীদের তুলে নিয়ে হত্যা করছে সেটি সত্যি ন্যাক্কারজনক। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তবে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। সঠিক ময়নাতদন্তের মাধ্যমে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা আমরা করব।
এ ঘটনায় জীবননগরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এছাড়াও ছাত্রদল যুবদল শহরে কয়েকটি ঝটিকা মিছিল বের করে।

