স্নেহেন্দু বিকাশ, পাইকগাছা
জাতিয় নির্বাচনে খুলনা-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর জয়-পরাজয় নির্ভর করবে সনাতনী ভোটের উপর? এমনটাই আভাস পাওয়া গেছে। নির্বাচনে ৫ প্রার্থীর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বি দু’প্রার্থী মনিরুল হাসান বাপ্পী ও মাওলানা আবুল কালাম আজাদ শেষ মুহূর্তে হিন্দু সম্প্রদায় ও আ.লীগ সমর্থীতদের সমর্থন পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
মাঠ জরিপের ভিত্তিতে রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের চুলচেরা বিশ্লেষণ জয়-পরাজয় অনেকটা নির্ভর করবে সম্পূর্ণ সংখ্যালঘুদের ভোট কেন্দ্রে উপস্থিতির উপর।
অন্যদিকে জাপা প্রার্থী মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর আ.লীগের সহানুভূতি পেতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন। সিপিবি প্রার্থী অ্যাড. প্রশান্ত মন্ডল ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আসাদুল ইসলাম ফকিরও সম্মানজনক ভোট পেতে যথেষ্ট প্রচারণা চালাচ্ছেন।
তবে, গণভোটে সরকারি প্রচারণা ছাড়া সাধারণ মানুষের মধ্যে কোন প্রকার প্রভাব পড়েনি।
সুন্দরবন ঘেষা কয়রা-পাইকগাছা উপজেলার ১৭ ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে খুলনা-৬ আসন। প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা হলেন, খুলনা জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী (ধানের শীষ) জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ (দাঁড়িপাল্লা), উপজেলা জাতিয় পার্টির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর (লাঙ্গল) বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) অ্যাড. প্রশান্ত মন্ডল (কাঁস্তে হাতুড়ি) ও ইসলামী আন্দোলনের জেলার নেতা আসাদুল্লাহ ফকির (হাতপাখা) প্রতিক।
নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ ভোটারদের অভিমত ভোটে মূলত ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
দু’দলই ভোটারদের সমর্থন পেতে পাড়া মহল্লা থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থানে প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি শেষ পর্যায়ে নির্বাচনী জনসভায় নির্বাচনী ইস্তেহার ঘোষণা করে এলাকার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দু’ উপেলার মোট ভোটারের সংখ্যা ৪ লাখ ১৮ হাজার ৭৩৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ১০ হাজার ২০৯ জন ও নারী ভোটার ২ লাখ ৮ হাজার ৫২৪ জন। তৃতীয় লিঙ্গের মাত্র ১ জন ভোটার।
তবে, নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, এ আসনে মোট ভোটারের মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায় বা সনাতনীদের ভোট রয়েছে ৯৪ হাজার ৬১৩ জন। আর এই সনাতনীদের ভোট টানতে বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থীরা নানান প্রতিশ্রুতি ও কৌশল নিয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের অভিমত হিন্দু সম্প্রদায়ের সমর্থন বা ভোটের উপর জয়-পরাজয় অনেকটা নির্ভর করবে।
তবে, ১২ ফ্রব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ কোন রকম মুখ খুলছেন না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ সম্প্রদায়ের একাধিক ভোটার ক্ষোভের সাথে জানিয়েছেন গত ৫৪ বছরে দেশে আ.লীগ, জাপা, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার দেখেছি।
আমাদের দাবি একটাই নিরাপদে ও ভালোভাবে ব্যবসা বাণিজ্য করে জীবন-যাপন করা। কিন্তু কোন সরকার আমলে সেটা সম্ভব হয়নি। গত ৫ আগস্টের পরের চিত্র তুলে ধরে এসব ভোটাররা বলেন, সরকার পতন বা ভোটের আগে-পরে হিন্দুদের উপর কম বেশি অত্যাচার, বাড়ি ঘরে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। তাই সব প্রার্থীর কাছে নিজেদের নিরাপত্তা দাবি করে এসব ভোটাররা কেন্দ্রে যাওয়ার কথা বলেছেন।
শতভাগ জয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করে ৮ ফ্রেব্রুযারি পাইকগাছায় শেষ নির্বাচনী জনসভায় বিএনপি মনোনিত প্রার্থী মনিরুল হাসান বাপ্পী উন্নত সমৃদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ গড়তে দলের ৩১ দফা বাস্তবায়নে হিন্দু- মুসলিমসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করেন। তিনি আরোও বলেন, ৭১’র পরাজিত ও ধর্মান্ধ গোষ্ঠী ক্ষমতায় এলে দেশ কারোর জন্য নিরাপদ হবে না।
এদিকে জয়ের আশা ব্যক্ত করে ৯ ফ্রেব্রুয়ারি বিকেলে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ পাইকগাছা সরকারি কলেজ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় দাঁড়িপাল্লা প্রতিকে ভোট প্রার্থনা করে বলেন, দেশ থেকে এক স্বৈরাচারকে তাড়িয়ে আমরা আর কোন স্বৈরশাসক দেখতে চাইনা। তিনি গত ১৭ মাসে নির্বাচনী এলাকায় একটি দলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি-দখলবাজি, নৈরাজ্য’র অভিযোগ করে আরোও বলেন, আমরা ক্ষমতায় এলে দেশে হিন্দু মুসলিমহ সকলে নিরাপদে বসবাস করবে।
