নড়াইল সংবাদদাতা
নড়াইল সদর উপজেলায় স্থানীয় জামায়াত নেতা হাসিবুর মোল্যার সেই অবৈধ কয়লা তৈরির ভাটায় অভিযান চালিয়ে আটটি চুল্লি ধ্বংস করেছে পরিবেশ অধিদফতর ও জেলা প্রশাসন।
সোমবার দুপুরে সদরের বিছালী ইউনিয়নের আটঘরা এলাকায় ভাটাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ধব্বংসের আদেশ দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার মো. রুবেল শেখ।
পরিবেশ অধিদফতর ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে নড়াইলের সদরের আটঘরা এলাকার একটি বাগানের মধ্যে অবৈধভাবে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা ভাটাতে কয়লা উৎপাদন করছিলো স্থানীয় ইউপি জামায়াতের যুব বিভাগের সভাপতি হাসিবুর মোল্যা। পরিবেশে ও জনজীবনের ওপর মারাত্মক ভাবে ক্ষতিকর সম্পূর্ণ অবৈধ ও বেআইনি কয়লা ভাট্টির সন্ধান পেয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে পরিবেশ অধিদফতর ও জেলা প্রশাসন।
অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারকের নির্দেশে কয়লা ভাটার আটটি চুল্লি ভেঙে গুড়িয়ে দেয়া হয়। এসময় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা জ্বলন্ত চুল্লির আগুন নির্বাপণ করেন। অভিযানে খবরে ভাটাতে কর্মরত শ্রমিক ও মালিক পালিয়ে যান। ভাটায় ব্যবহৃত গাছ ও একটি ট্রলি জব্দ করে জেলা প্রশাসন। এ সময় জেলা পরিবেশ অধিদফতর সহকারী পরিচালক আব্দুল মালেক মিয়া ছাড়াও জেলা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সার্বিক সহযোগিতা করেন।
এর আগে, গত ১২ সেপ্টেম্বর ওই এলাকায় অবৈধ কয়লা ভাটার সংবাদ সংগ্রহে যান সময় টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি সৈয়দ সজিবুর রহমান ও স্থানীয় আরেকজন সংবাদকর্মী রাসেল হুসাইন।
সংবাদ সংগ্রহ শেষে খবর প্রচার না করতে টাকা দিয়ে তাদের ম্যানেজের চেষ্টা করেন কয়লা ভাটার মালিক স্থানীয় বিছালী ইউনিয়ন জামায়াতের যুব বিভাগের সভাপতি হাবিবুর মোল্যা। টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানালে মব সৃষ্টি করে সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করেন ওই জামায়াত নেতা ও তার অনুসারীরা। ঘটনার ২ দিন পর জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদফতর অভিযান চালিয়ে জামায়াদ নেতার অবৈধ কয়লা ভাট্টি ধ্বংস করে দেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুবেল শেখ বলেন, কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করা হচ্ছে এটা সম্পূর্ণ অবৈধ। এর বিরুদ্ধে এলাকার স্থানীয় জনগণ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রচারিত হয়, যেটি জেলা প্রশাসনের নজরে আসে। কয়লা ভাট্টির নির্গত কালো ধোয়া (কার্বন মনোক্সাইড) পরিবেশ ও মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
সম্পূর্ণ অবৈধ ভাটাটির খবরে আমরা অভিযান পরিচালনা করি। এ সময় ভাটায় কর্মরতরা পালিয়ে যান। আমরা চুল্লিগুলো সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিয়েছি। কাঠ ও একটি ট্রলি জব্দ করা হয়েছে। অবৈধ কাজের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
