বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
যশোর সদর উপজেলার আরবপুর ইউনিয়নের বালিয়া ভেকুটিয়া এলাকার ইকরা ইসলামীয়া ক্যাডেট মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক ইশতিয়াক হোসেনকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। রোববার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পাল সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে শুনানি শেষে আসামি দোষস্বীকার করা এ সাজার আদেশ দিয়েছেন। বিষয়টি আদালতের বেঞ্চসহকারী মোজাফ্ফর হোসেন।
অভিযোগে জানা গেছে, মাদ্রাসার ভুক্তভোগী নারী শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক ইশতিয়াক হোসেনের অসদাচরণ ও কুরুচিপূর্ণ প্রস্তাবের শিকার হয়ে আসছিলেন। গত ৫ আগস্ট সকাল ১১টার দিকে প্রধান শিক্ষক তাকে নিজ অফিস কক্ষে ডেকে পাঠান। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় ওই শিক্ষিকা কক্ষে প্রবেশের আগেই নিজ মুঠোফোনে অডিও রেকর্ড চালু করে ভেতরে প্রবেশ করেন।
কথোপকথনের একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষক তাকে নানা অশালীন, অনৈতিক ও আপত্তিকর কথাবার্তা বলেন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। পরবর্তীতে কক্ষ থেকে বের হয়ে ধারণকৃত অডিও রেকর্ডটি অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মচারীদের শোনালে পুরো মাদ্রাসায় চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে গত ৮ আগস্ট মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকরা কোতোয়ালি থানা পুলিশকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক ইশতিয়াক হোসেনকে তাদের হেফাজতে নেয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আলমগীর হোসেন জানান, ভুক্তভোগী শিক্ষিকার দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে রোববার আদালতে প্রসিকিউশন প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। শুনানি শেষে আদালত বাদী ও আসামি উভয়ের বক্তব্য গ্রহণ করেন। এ সময় প্রধান শিক্ষক ইশতিয়াক হোসেন নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিলে বিচারক সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে তাকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

