প্রবাস বাংলা ডেস্ক
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিকে দেশটির পবিত্রতম শিয়া ধর্মীয় স্থান মাশহাদের ইমাম রেজা (আ.) মাজারে দাফন করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হওয়ার চার মাসেরও বেশি সময় পর শুক্রবার ভোরে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, দাফন অনুষ্ঠানটি ছিল ব্যক্তিগত। তবে এর আগে ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন শহরে এক সপ্তাহব্যাপী শোকযাত্রা ও রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি পালিত হয়। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব কর্মসূচিতে দেড় কোটিরও বেশি মানুষ অংশ নিয়েছেন।
খামেনির মরদেহ প্রথমে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধার জন্য রাখা হয়। পরে রাজধানীর আজাদি স্কয়ার, পবিত্র নগরী কোম এবং ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার তাঁর মরদেহ মাশহাদে নেওয়া হয়।১
শোকযাত্রার শেষ পর্যায়ে মানুষের ভিড় এতটাই বেড়ে যায় যে কফিনবাহী গাড়ি এগোতে পারেনি। পরে হেলিকপ্টারে করে মরদেহ ইমাম রেজা (আ.) মাজারে নেওয়া হয়, যেখানে তাঁর দাফনের ইচ্ছা ছিল।
তবে পুরো শোকানুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন খামেনির ছেলে ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলার পর থেকে তিনি জনসমক্ষে আসেননি।
এদিকে, দাফনের কয়েক ঘণ্টা আগে বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রের আশপাশসহ ইরানের কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ওই সময় তারা ইরানের ভেতরে কোনো হামলা চালায়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৭ জুন একটি প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও তা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে উভয় পক্ষই একাধিকবার পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে।
মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালিতে তিনটি তেলবাহী জাহাজে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বিমান হামলা চালায়। এরপর ন্যাটো সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়ে গেছে।
এর জবাবে ইরান কুয়েত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। তবে সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেও কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে ফেরার ইঙ্গিত দেয়নি।

