পাইকগাছা সংবাদদাতা
খুলনার পাইকগাছায় পানিউন্নয়ন বোর্ডের অফিস কলোনীর জমি থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে দখলমুক্ত করা হয়েছে।
বুধবার সকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত এক্সকাভেটর (ভেকু) মেশিনে পৌর সদরের অফিস কলোনীর গাছপালাসহ ১১ থেকে ১৫ টি বসতবাড়ির সবগুলো স্থাপনা উচ্ছেদ করে জমি উদ্ধার করেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত খুলনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (আরডিসি) আরিফুজ্জামান আরিফের উপস্থিতিতে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী মাজিস্ট্রেট ফজলে রাব্বি।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এসএম রিফাত বিন রফিকসহ স্থানীয় পাউবো কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, পাউবো’তে চাকরিকালে আ. খালেক, রশিদ, মফেজসহ ১১-১৪ পরিবার অফিস কলোনির ভিতরে ঘরবাড়ি বেঁধে বসবাস করতেন। তাদের অবসর জীবন এমনকি মৃত্যুর পরেও তাদের পরিবারবর্গ এ জমিতে বসবাস করে আসছেন।
এ বিষয়ে পাউবো’র বিভাগীয় উপ-প্রকৌশলী রিফাত বিন রফিক জানান, সরকারি জায়গা ছাড়তে সর্বশেষ ১ মাস পূর্বেও অবৈধ দখলকারীদের নোটিশ দেয়া হয়, কিন্তু তারা কোন গুরুত্বই দেয়নি। শেষ পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ জমি উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে কয়েক যুগের বসবাসের ঘরবাড়িসহ সহায় সম্পদ হারিয়ে সখিনা বিবি, রশিদ, খালেক, মফেজসহ একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের আহাজারি ও কান্না থামছে না। তাদের আক্ষেপ বিগত ৪০ বছরের সংসার জীবনের এ পর্যায়ে সবকিছু হারিয়ে বৃদ্ধ মা-বাবা-শিশু সন্তানদের নিয়ে এখন কোথাও ঠাই হবে!
এদিকে উচ্ছেদকালে স্থানীয় তারক সানা দাবি করেন, বাতিখালী মৌজার এসএ ২৬৯ খতিয়ানের সাড়ে ৬২ শতক এ জমি আমার পরিবারের সুভাষ সানা মহিম, বিধান গংদের।
বর্তমার জরিপে রেকর্ড ও কর খাজনাও পরিশোধ।
তিনি আরো জানান, পাউবো’র বিরুদ্ধে আদালতে মামলা ও উচ্ছেদের পূর্বে আমরা কোন নোটিশ পায়নি।
এ বিষয়ে খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আরিফুজ্জামান আরিফ সাংবাদিকদের জানান, কার কি কাগজপত্র আছে সেটা দেখার বিষয় আমার না। আমি অভিযানকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে দায়িত্ব পালন করছি।

