বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
প্রবাসীদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রায় আমদানিকৃত জ্বালানি তেল সীমান্তপথে পাচার রোধ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা করতেই দেশের বাজারে সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
বিশ্ববাজারে তেলের মূল্য স্থিতিশীল হলে এবং পরিস্থিতি অনুকূলে এলে দেশের বাজারেও দাম পুনর্মূল্যায়ন করে আগের চেয়ে কমানোর ইঙ্গিত দেন তিনি। বুধবার বিকেলে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সরকারি কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মূল্য সমন্বয়ের মূল কারণ ব্যাখ্যা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি তেল বৈদেশিক মুদ্রায় আমদানি করতে হয়, যার বড় একটি অংশ আসে প্রবাসীদের পাঠানো কষ্টার্জিত রেমিট্যান্স থেকে। পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দেশের তুলনায় বাংলাদেশে তেলের দাম কম থাকায় সীমান্তপথে পাচারের একটি বড় ঝুঁকি তৈরি হয়।
প্রবাসীদের রক্ত পানি করা টাকায় কেনা তেল পাচার হয়ে যাওয়া দেশের অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তিনি বলেন, মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত জ্বালানির দাম না বাড়ানোয় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা লোকসান গুণতে হয়েছে।
একই সাথে বিশ্ববাজারে তেল, জাহাজভাড়া ও বিমা ব্যয় আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক বৈশ্বিক অস্থিরতা কেটে গেলে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে আবারও দাম কমানো হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।
আসন্ন বোরো মৌসুমে কৃষকদের সেচ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে সরকার নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
এছাড়া সেচ ব্যয় ও জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমাতে ভবিষ্যতে সৌরবিদ্যুৎনির্ভর সেচব্যবস্থা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন প্রিন্সের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন-ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আযম মুহাম্মদ আবু বকর, ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মতিয়ার রহমান, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি কাজী একরামুল হক, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন, জেলা বিএনপির সহসভাপতি জাহিদুজ্জামান মোনা প্রমুখ।
মতবিনিময় সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ঝিনাইদহ জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে একটি স্মারক বৃক্ষরোপণ করেন।
