বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে যশোরে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। রোববার সন্ধ্যা থেকে শহরের ঐতিহ্যবাহী লালদীঘিতে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জন। এ উপলক্ষে দীঘির চারপাশে নামে হাজারো মানুষের ঢল। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি আর ভক্তদের আবেগঘন পরিবেশে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানো হয়।
যশোর পৌরসভার তত্ত্বাবধানে শহরের ৪৯টি পূজামণ্ডপের প্রতিমা লালদীঘিতে বিসর্জন দেওয়া হয়। বিসর্জন অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন করতে লালদীঘি ও আশপাশের এলাকায় নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন।
বিকেল থেকেই শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা নিয়ে ভক্তরা লালদীঘির দিকে আসতে থাকেন। বাদ্যযন্ত্রের তালে নেচে-গেয়ে, সিঁদুর খেলায় মেতে এবং ধর্মীয় আচার পালনের মধ্য দিয়ে তাঁরা দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান। এ সময় অনেক ভক্তের চোখে ছিল অশ্রু। পাঁচ দিনের উৎসব শেষে দেবীকে বিদায় জানানোর বেদনার পাশাপাশি আগামী বছর আবারও মর্ত্যে ফিরে আসার প্রত্যাশা ছিল তাঁদের কণ্ঠে।
প্রতিমা বিসর্জন দেখতে দীঘির চারপাশে জড়ো হন বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ ও শিশুরা। শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীরাই নন, অন্যান্য ধর্মের মানুষও এ আয়োজন উপভোগ করতে আসেন। এতে লালদীঘি এলাকা পরিণত হয় এক মিলনমেলায়।
বিসর্জন উপলক্ষে লালদীঘির আলী রেজা রাজু মঞ্চে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলাম বলেন, প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে মানুষের এই ঢল প্রমাণ করে বাঙালি উৎসবকে ভালোবাসে। যশোর অসাম্প্রদায়িক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জেলা।
এখানে ধর্ম-বর্ণের কোনো বিভেদ নেই। হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণই সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপঙ্কর দাস রতনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ, যশোর সেনানিবাসের লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোস্তফা কামাল, বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, যশোর সাংগঠনিক জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতারা।
আলোচনা সভায় বক্তারা যশোরের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
শেষ পর্যন্ত আনন্দ-বেদনার মিশ্র অনুভূতিতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পর্দা নামে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবের। ভক্তদের হৃদয়ে থেকে যায় আগামী বছরের অপেক্ষা—‘আসছে বছর আবার হবে’।
