কাজী নূর
একদিকে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস অপরদিকে ঋতুরাজ বসন্ত। দুটি উপলক্ষকে কেন্দ্র করে হরেক রঙের পর্যাপ্ত ফুলের পসরা সাজিয়েছিলেন শহরের মিস্ত্রিখানা রোডের বৈশাখী ফুলঘরের রাজু আহমেদ। প্রত্যাশা ছিল এ বছরের বিক্রি গত ২০২৫ সালকে অতিক্রম করবে। সেখানে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত তার বিক্রি কাঙ্ক্ষিত নয় বলে বাংলার ভোরকে জানান রাজু। হতাশা প্রকাশ করে তিনি জানান, যদিও এবার ফুলের দাম সামান্য বেশী তাই বলে তো আবেগ, ভালোবাসা থেমে নেই।
বিপরীতে চিত্রা মোড়ের সূর্যমুখি ফুলঘরের হারুন অর রশীদ জানান, গোলাপ, গাদা, জারবেরা, রজনীগন্ধা, গ্লোরিয়াসহ নানা জাতের ফুল সংগ্রহ করেছেন। গত বছরের চেয়ে এবার ফুলের দাম সামান্য বেশী। তবে এবার বিক্রি কম। দুটি দিবস নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তেমন আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এবার বিক্রি কম হলেও হারুন অর রশীদের প্রত্যাশা আজ তার দোকানে বিক্রি এক লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে যাবে। যা গত বছরের তুলনায় ৪০ পার্সন্ট কম।
দড়াটানা মোড়ের সজিব ফুলঘরের আবু তাহলা জানান, গত বছরের তুলনায় এবার বিক্রি কম। মেয়েদের মাথায় দেবার জন্য ফুল অনেকগুলো ব্যন্ড তৈরী করলেও তার একটিও বিক্রি হয়নি। তবে সন্ধ্যা থেকে ফুল বিক্রি বাড়ছে বলে জানান তিনি। এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে বিক্রির পরিমাণ চল্লিশ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
ফুল কিনতে এসেছিলেন সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আলিফ রেজওয়ান খান। তিনি জানান, বন্ধুদের বসন্তের শুভেচ্ছা জানাতে ফুল নিতে এসেছি। গোলাপ ৩০ টাকা, জারবেরা ৩০ টাকা, রজনীগন্ধা ১৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আলিফের ভাষায়, এবার ফুলের দাম বেশী। তাই অল্প ফুল কিনে তিনি প্রয়োজন সেরে নিচ্ছেন।
বছরে দু একটি বিশেষ দিনে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় ফুলের দাম একটু এদিক ওদিক হতে পারে জানিয়ে শহরের ঘোপ নওয়াপাড়া রোড এলাকা থেকে ঝর্ণা মনি সাহা নামে নার্সিংয়ের ছাত্রী বলেন, বিশেষ মানুষকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে ফুল নিতে এসেছি। এখানে দাম কম বেশী প্রাসঙ্গিক নয়। ফুল তো ভালোবাসার প্রতীক। আর ভালোবাসা অমূল্য।
