বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোরের শার্শা উপজেলায় সরকারি খাস জমি দখল যেন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দখল শুরু হলে মাঝে মাঝে প্রশাসনের লোকজন এসে ‘বন্ধ’ করার নির্দেশ দেন, কিন্তু কিছুদিন না যেতেই সেখানে স্থায়ী স্থাপনা দাঁড়িয়ে যায়।
উপজেলার বাগুড়ী বেলতলা আম বাজার সংলগ্ন নাভারণ-সাতক্ষীরা সড়কের পশ্চিম পাশে জেলা পরিষদের মালিকানাধীন একটি খাস জমি দখল করে আমের আড়ত নির্মাণ করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী শাহাজান কবির পন্ডিত এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই জায়গা ঘিরে ইটের দেয়াল ও পিলার তোলা হয়েছে। ওপরের অংশে টিন দিয়ে ঘর নির্মাণ প্রায় শেষ। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় চার শতক জমির ওপর এ স্থাপনা গড়ে উঠেছে।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, শুরুতে প্রশাসনের নড়াচড়া দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত আর কিছুই হয় না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, আমরা নিজের চোখে দেখেছি জায়গাটা সরকারি। যখন কাজ শুরু হয়, তখন বন্ধও করে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু কয়েকদিন পর দেখি আবার কাজ শুরু, পরে তো পুরো ঘরই দাঁড়িয়ে গেল। তাহলে বন্ধের নির্দেশ দিল কার জন্য?
আরেকজন বলেন, এভাবে যদি সরকারি জমি একের পর এক চলে যায়, ভবিষ্যতে রাস্তা প্রশস্তকরণ বা জনস্বার্থে কোনো কাজ করতে গেলে জায়গা কোথায় পাবে সরকার?” অভিযোগ রয়েছে, অতীতেও বিভিন্ন সময় ইউনিয়ন পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তাকে ‘ম্যানেজ’ করে দখলের ঘটনা ঘটেছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে প্রভাব থাকলে সরকারি জায়গা দখল করাও কঠিন নয়।
অভিযুক্ত শাহাজান কবির পন্ডিত বলেন, তিনি মূলত নিজের জমিতেই ঘর নির্মাণ করছেন। তবে জেলা পরিষদের কিছু অংশ সঙ্গে যোগ হয়ে থাকতে পারে। জেলা পরিষদ নিষেধ করলে তিনি ঘর ভেঙে নেবেন বলেও দাবি করেন।
এ ব্যাপারে কায়বা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা ফারুক হোসেন এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারবেন না জানিয়ে এসিল্যান্ড অফিসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়াজ মাখদুম জানান, জেলা পরিষদের জায়গায় স্থাপনা না করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যদি সেই নির্দেশ অমান্য করে কেউ নির্মাণ কাজ চালিয়ে যায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং সরকারি জমি অবমুক্ত করা হবে।
