জাকির হোসেন, আশাশুনি
আশাশুনিতে মাত্র ২ কি.মি. ইটের সোলিং রাস্তার বেহাল দশার কারণে কাদাকাটি ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের কাদাকাটি গ্রামের প্রায় ৫০০ পরিবার বর্ষা মৌসুমের কাদাপানিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে থাকা সংশ্লিষ্ট এলাকার ২ শতাধিক শিশু কিশোর শিক্ষার্থীরা অনতিবিলম্বে রাস্তাটি সংস্কার করে দিতে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সরজমিনে দেখা গেছে, কাদাকাটি ইউনিয়নের হাজীর হাটখোলা থেকে উত্তরে খালের পূর্ব দিক দিয়ে অছিরুদ্দীন সরদারের বাড়ি পর্যন্ত একটি ইটের সোলিং রাস্তার ইট উঠে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। রাস্তা দিয়ে কোন পরিবহন তো দূরের কথা একটি বাইসাইকেল চলতে পারে না। এমনকি রাতের বেলা হেঁটেও পথ চলা যায়না।
জমিতে সার প্রয়োগ করে ফেরার পথে স্থানীয় কৃষক মোনায়েম হোসেন বলেন, এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন শত শত কৃষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ চলাচল করে। হাজীর হাটখোলা থেকে উত্তরে ২ কিলোমিটারের মধ্যে মধু মিস্ত্রীর বাড়ি পর্যন্ত ইটের সোলিং রাস্তা। বাকি অছিরুদ্দীনের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ১০০ মিটার মাটির রাস্তা।
যেখানে বাচ্চাদের কোমর পর্যন্ত কাদা হয়ে আছে। ভ্যান না চলায় জমিতে সার দিতে বাড়ি থেকে সার মাথায় করে নিয়ে যেতে হয় কৃষককে। ধান ওঠার সময়টাতেও এ রাস্তা দিয়ে কোন গাড়ি চলাচল করতে না পারায় মাথায় করে বহন ছাড়া উপায় থাকে না। শত শত কৃষকদের কথা মাথায় রেখে কাদাকাটি পশ্চিম ও উত্তর বিলের হাজার হাজার বিঘা জমির ধান ও মৎস্য সম্পদ বহনের জন্য রাস্তাটি উপযোগী করে তোলার জন্য প্রশাসনসহ জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
গৃহবধূনাসিমা খাতুন জানান, কাদাকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা প্রায় অর্ধশতাধিক শিশু শিক্ষার্থীদের বাবা মায়েরা প্রতিদিন ঘাড়ে বা কোলে নিয়ে এই কাদা পানি পার করে দিয়ে যায়। যেদিন বেশি বৃষ্টি হয় সেদিন স্কুলে যাওয়া বন্ধ করতে হয়। ইটের সোলিংটি সংস্কারের পাশপাশি বাকি ১০০ মিটার রাস্তা পাকা না করলে এ ভোগান্তির শেষ হবে না।
পার্শ্ববর্তী সাদ্দাম হোসেন ও সাজেদা খাতুন জানান, এই রাস্তায় কোন ভ্যান আসতে পারে না তাই যাবতীয় মালামাল হাতে বা মাথায় নিয়ে আসতে হয়। কেউ অসুস্থ হলে রোগী বহনের জন্য যে ভোগান্তি পোহাতে হয় সেটা এই যুগের মানুষের কাছে বোঝানো যাবে না।
স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে কথা বললে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের পক্ষে তাঁরাও ২ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার ও বাকি ১০০ মিটার রাস্তা পাকা করণের দাবি করেন।
হাজীর হাটখোলার ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যম কর্মী এমএম নূর আলম বলেন, বাজার থেকে ৫/৭ শত পরিবারের নিত্য প্রয়োজনীয় মালামাল বহনের দৃশ্য দেখলে মনে হবে আপনি এখনও আশি সালে পড়ে আছেন। অতি দ্রুত রাস্তা সংস্কারসহ একটি কালভার্ট নির্মাণ করে পূর্ব দিকের বিলের পানি খালে নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
১,২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য আলো রানী বলেন, বেহাল রাস্তার কারণে ১ নং ওয়ার্ডের ৫ শতাধিক পরিবার এক প্রকার মানবেতর জীবন-যাপন করতে বাধ্য হচ্ছে। এলাকাবাসীর পক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তিনি প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
