মণিরামপুর সংবাদদাতা
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন বাজারে নিত্যপণ্যের মূল্য তালিকা প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও অধিকাংশ দোকানে নেই সেই তালিকা। এ সুযোগে দোকানিরা ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। ফলে একই পণ্যের দাম দোকানভেদে ৫ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার উপজেলার মণিরামপুর পৌর বাজার, ঝাঁপা বাজার, রাজগঞ্জ, গোপালপুর, চিনেটোলা ও লেহালপুর বাজার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে সবজি, মাছ, মাংস, ফল, মুদি সামগ্রী ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানগুলোতে কোনো মূল্য তালিকা টানানো হয়নি। ফলে ক্রেতারা নির্ধারিত দাম সম্পর্কে ধারণা না পেয়ে দোকানিদের ওপরই নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ এর ৩৮ নং ধারা অনুযায়ী, দোকান বা প্রতিষ্ঠানে সহজে দেখা যায় বা বোঝা যায় এমন স্থানে মূল্য তালিকা টাঙানো না হলে বা প্রদর্শন করা না হলে সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড অথবা ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিতের বিধান রয়েছে। কিন্তু এ বিধান শুধু কাগজে-কলমেই শোভা পাচ্ছে। বাস্তবে তার প্রয়োগ নেই বললেই চলে।
দিনমজুর শফিকুল ইসলাম বলেন, এক দোকানে আলু ২০ টাকা, পাশের দোকানে ৩০ টাকা। দাম জিজ্ঞেস করলেই অনেকে রাগ করে। তালিকা থাকলে এ সমস্যাটা হতো না। গৃহিণী রাবেয়া খাতুন বলেন, তালিকা না থাকায় ইচ্ছেমতো দাম নেন দোকানদাররা। তেল, আটা, লবণ সবকিছুর দাম দোকানভেদে আলাদা। এ বিষয়ে এক দোকানি বলেন, পাইকারি বাজারে সবজির দাম ওঠানামা করে।
প্রতিদিন তালিকা দেয়া কঠিন। তবে আমরা বেশি দাম নেই না। তবে বেশিরভাগ ব্যবসায়ীই স্বীকার করেন মূল্য তালিকা প্রদর্শন করা তাদের বাধ্যবাধকতা। বাজারের এক মাছ ব্যবসায়ী বলেন, বাজারদর সবসময় এক থাকে না। সকালে একদাম আবার বিকেলে হয়ে যায় আরেক দাম। যেভাবে পণ্যের দাম ওঠানামা করে, তাতে প্রতিদিন আমাদের পক্ষে তালিকা সংশোধন সম্ভব নয়। তাছাড়া অনেক পণ্য মাঝে-মধ্যে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কমেও বিক্রি হয়। তাই তালিকা টাঙানোর গুরুত্ব থাকে না।
সচেতন মহলের দাবি, নিয়মিত তদারকি ও সচেতনতা বাড়ানো হলে বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে। আর মূল্য তালিকা ঝুলিয়ে রাখলে ব্যবসায়ী ক্রেতা উভয়পক্ষই প্রতিদিনের অযথা ঝামেলা থেকে মুক্তি পাবেন।
স্থানীয় শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, মূল্য তালিকা না থাকলে ব্যবসায়ীরা অসাধু সুযোগ নেবেই। নিয়মিত তদারকি ছাড়া বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে না। সামাজিক সংগঠনের কর্মী হাফিজুর বাবু বলেন, বাজারে মূল্য তালিকা থাকলে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই স্বচ্ছতার মধ্যে থাকবে। প্রশাসনের উচিত এ ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যশোর জেলার সহকারী পরিচালক মো. সেলিমুজ্জামান বলেন, মূল্য তালিকা না থাকলে ক্রেতারা ১৬১২১ নম্বরে অভিযোগ জানাতে পারেন। অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
মণিরামপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন বলেন, মূল্য তালিকা প্রদর্শনের ব্যাপারে জনগণকে সচেতন হতে হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুতই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
