বাংলার ভোর প্রতিবেদক
‘রসাল কহিল উচ্চে স্বর্ণলতিকারে; শুন মোর কথা, ধনি, নিন্দ বিধাতারে।’ মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত এভাবে তার কবিতায় নারীবাদকে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ নাটকের মাধ্যমে তিনি সমাজের পরিবর্তন, মানসিকতা, বিবর্তন, চাহিদা নতুন করে তুলে ধরেছেন।
বাংলা সাহিত্যকে নতুন মাত্রা, বাংলা ভাষাকে নতুন রূপ দিয়েছেন। বাংলাকে অবজ্ঞা করে পাশ্চাত্যে গেলেও পরবর্তীতে বাংলার প্রতি তার গভীর অনুভব, ভালোবাসা লক্ষ্য করা গেছে। তাইতো তিনি লিখেছিলেন, সতত যে মতি লোকে নিশার স্বপনে, শোনে মায়া-যন্ত্রধ্বনি/তব কলকলে জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে! আবার তিনি লিখেছেন, ‘রেখ মা দাসেরে মনে, এ মিনতি করি পদে/সাধিতে মনের সাধ।”
রোববার সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ২০২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে যশোরের সাংস্কৃতিক সংগঠনসমূহের আয়োজনে এক আলোচনায় এসব কথা বলেন বক্তারা।
মধুসূদন চর্চার প্রতি আহবান জানিয়ে এ সময় বক্তারা আরো বলেন, মধুসূদনের কবিতা, বাংলা সাহিত্যে তার ধারা, পত্রকাব্য রচনা আমাদের ধারণ করতে হবে।
বিবর্তন যশোরের সহ সাধারণ সম্পাদক আবৃত্তিশিল্পী শাহরিন নিশির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন অরুণ মজুমদার ও অ্যাড. বাসুদেব বিশ্বাস। মহাকবির লেখা কবিতা একক আবৃত্তি করেন কাজী শাহেদ নেওয়াজ ও শ্রাবণী সুর। এছাড়া একক, সমবেত সঙ্গীত ও নাটক ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ মঞ্চস্থ হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলার ভোরের উপদেষ্টা সম্পাদক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হারুন অর রশীদ, কিংশুকের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল করিম সোহেল, নাট্যকার আলমগীর হোসেন বাবু, অ্যাড. মাহমুদ হাসান বুলু, থিয়েটার ক্যানভাসের উপদেষ্টা নাট্য ব্যক্তিত্ব নুরুজ্জামান বকুল, বিবর্তনের সানোয়ার আলম খান দুলু, নওরোজ আলম খান চপলসহ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের নেতৃবৃন্দ।
