বাংলার ভোর প্রতিবেদক
মিছিলে-স্লোগানে মুখরিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জনসভাস্থল যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ। সোমবার সকাল থেকে মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেন দলীয় নেতাকর্মীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নেতাকর্মীদের চাপ বাড়তে শুরু করে। দুপুর সাড়ে ২টার দিকেই লোকে লোকারণ্য হয়ে যায় জনসভাস্থল। দলীয় সূত্রে জানা গেছে বিকাল চারটায় জনসভায় ভাষণ দিবেন তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে মিছিলের নগরীতে রূপ নিয়েছে যশোর শহর। মুজিবসড়ক, চিত্রামোড়, গাড়িখানা, দড়াটানা, গরিবশাহ সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশিরভাগ সড়কে বন্ধ রয়েছে যান চলাচল। অনেকে হেঁটে হেঁটে গন্তব্যে যাচ্ছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, যশোর শহরের সবকটি প্রবেশ মুখ দিয়ে দলে দলে শহরে ঢুকছে মানুষ। মিছিল সহকারে প্রতিটি মিছিল এসে শেষ হচ্ছে জনসভাস্থলে।
বাঘারপাড়ার রায়পুর থেকে আসা বিএনপি কর্মী নুরুজ্জামান বলেন, ‘তারেক রহমানকে কখনো সরাসরি দেখা হয়নি। তার মা বাবা দুজনকেই এই যশোরে দেখেছি। মাঠে বোরো ধানকাটা শুরু হয়েছে; তার মধ্যেও কাজ ফেলে এসেছি, শুধু তারেক রহমানকে দেখতে। তার ভাষণ শুনবো বলে। তার মাও এই ঈদগাহ মাঠে এসে বিভিন্ন উন্নয়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন। দেখা যাক, যশোরে তারেক রহমান কি দেয় আমাদের।’
বাঘারপাড়া থেকে অন্তত ১০ হাজার নেতাকর্মী এসেছে ঈদগাহ মাঠে। সবার গায়ে কলাপাতা রঙের টিশার্ট ও ক্যাপ। টিশার্টে কেন্দ্রীয় বিএনপি সদস্য ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুবের ছবি সাটানো। এসব নেতাকর্মীদের হাতে চিড়া, পানি আর কলা দেখা গেছে। কিছুক্ষণ পরপর তারা তারেক রহমানের নাম ধরে স্লোগান দিচ্ছে।
সদরেরর ফতেপুর এলাকার নুরনবি বলেন, ‘যশোরে উন্নয়নের কারিগর বলা হয় তরিকুল ইসলামকে। তার হাত দিয়ে এই অঞ্চলে উন্নয়ন করেছে বিএনপি। দীর্ঘদিন ধরে যশোরবাসীর দাবি সিটিকর্পোরেশন, ৫০০ শয্যা হাসপাতালের। আজ হাসপাতালটির কাজের উদ্বোধন করেছেন তারেক রহমান। আজ সিটি কর্পোরেশন ঘোষণা করবেন আশা করি।’
যশোর জেলা বিএপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক এই জনসভায় লক্ষাধিক লোক সমাগমের টার্গেট করছেন। এর বেশিরভাগ লোকই আসবে শহরের বাইরে থেকে। বৃহত্তর যশোরের ৪ জেলা ছাড়াও খুলনা বিভাগের অন্য ১০ জেলা থেকেও কমবেশি মানুষ জনসভায় আসবেন। একটি শান্তিপূর্ণ ঐতিহাসিক জনসভা উপহার দেয়ার চেষ্টা করছে জেলা বিএনপি।
এদিকে, আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যশোরের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী এয়ারলাইন্সটি যশোর বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
সেখানে তাকে স্বাগত জানান যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা।

