বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোরে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে অস্ত্র মামলার দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
ডিবি সূত্রে জানা যায়, যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার মামলা নং-২৪/২৮৪ এর তদন্তের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। মামলাটি ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯এ/১৯(এফ) ধারায় দায়ের করা হয়েছে।
গত ৬ এপ্রিল দুপুরে ডিবির উপ-পরিদর্শক অলক কুমার দে পিপিএম-এর নেতৃত্বে একটি টিম কোতোয়ালি থানাধীন এমকে রোডের সন্ধানী সুপার মার্কেট এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় মেসার্স তন্নী টেলিকমের মালিক আলী হোসেন (৩৩) কে আটক করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে তল্লাশি চালিয়ে একটি সচল বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও একটি তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেন ডিবির উপ-পরিদর্শক সালাউদ্দিন খান। তদন্তকালে গ্রেফতারকৃত আলী হোসেনের দেওয়া তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আরও দুই আসামি খালিদুর রহমান টিটু (৩৩) ও শেখ মইনুদ্দীন ফেরদৌস (৪০) কে কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্য বলে তথ্য পাওয়া যায়।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আলী হোসেনের বিরুদ্ধে পূর্বে একটি অস্ত্র মামলা রয়েছে এবং খালিদুর রহমান টিটুর বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদক ও বিস্ফোরকসহ মোট ১৫টি মামলা রয়েছে।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হলে তা তদন্ত করে ডিবি পুলিশ। ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, অভিযানের আগে এক ব্যক্তি একটি শপিং ব্যাগ নিয়ে আলী হোসেনের দোকানে প্রবেশ করে ব্যাগটি রেখে যায়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে শেখ মইনুদ্দীন ফেরদৌস ওই ব্যক্তি তিনিই বলে স্বীকার করেন।
গ্রেফতারকৃত আসামি শেখ মইনুদ্দীন ফেরদৌস ও খালিদুর রহমান টিটু আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। এ মামলায় এখন পর্যন্ত মোট তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

