বাংলার ভোর প্রতিবেদক
ধর্ষণ মামলা দিয়ে জেল খাটানোর ভয় দেখিয়ে চাঁদাদাবির অভিযোগে ডিবিসি নিউজের স্থানীয় প্রতিনিধি সাকিরুল কবীর রিটনসহ ১০ সাংবাদিক নামধারী দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে যশোর আদালতে মামলা হয়েছে। বুধবার যশোর সদরের ঘুরুলিয়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে ও মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার রাফসান জানী বাদী হয়ে এ মামলা করেছেন।
সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সুলতানা অভিযোগের তদন্ত করে ডিবি পুলিশকে প্রতিবেদন জমা দেয়ার আদেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী আব্দুর রহমান সোহাগ।
আসামিরা হলেন, যশোর শহরতলীর বিরামপুর ফকিরার মোড় এলাকার হাজী লিয়াকত আলীর ছেলে ও এশিয়ান টিভির যশোর জেলা প্রতিনিধি হাসিবুর রহমান শামীম, শহরের সিটি কলেজ পাড়ার আকবরের ছেলে ও স্বদেশ বিচিত্রার কথিত সাংবাদিক আসিফ আকবর সেতু, ডিবিসি নিউজ টিভির যশোর জেলা প্রতিনিধি সাকিরুল কবীর রিটন, মণিরামপুরের করেরআইল ঢাকুরিয়া গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে ও নাগরিক ভাবনার উপজেলা প্রতিনিধি জকির হোসেন, তাহেরপুর গ্রামের দেবাশীষ চক্রবর্তীর ছেলে ও অনলাইন কলম কথার সম্পাদক সুমন চক্রবার্তী, এসএম সিদ্দিকের ছেলে এসএম তাজাম্মুল, জামজামি কুয়াদা গ্রামের মৃত আনোয়ার বিশ্বাসের ছেলে আব্দুল হাই, বিপ্রকোনা গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে নুর ইসলাম নাহিদ, হাকোবা গ্রামের পীর আলীর ছেলে তহিদুল ইসলাম ও দৈনিক অভয়নগরের প্রতিনিধি ইসমাইল।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ডাক্তার রাফসান জানীর কিশোরী শ্যালিকা তাকে ও তার বোনকে শায়েস্তা করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ঘটনা উল্লেখ করে পোস্ট করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যশোরের কতিপয় সাংবাদিক পরিচয়দানকারী আসামিরা ডাক্তার রাফসান জানীকে মামলা দিয়ে জেল খাটানোর ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করতে থাকেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৮ মার্চ আসামি আসিফ আকবর সেতু ফোন করে ডাক্তার রাফসান জানীকে দেখা করতে বলেন। এ দিন সন্ধ্যায় ডাক্তার ও তার স্ত্রী যশোর জিলা স্কুলের সামনে আসামি সেতুর সাথে দেখা করলে মামলা ও চাকরিচ্যুত থেকে বাঁচতে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন।
এরপর ১২ মার্চ ডিবিসি নিউজের সাংবাদিক সাকিরুল কবীর রিটন ফোন করে দেখা না করলে বিপদ হবে বলে ডাক্তার রাফসান জানীকে হুমকি দেন। রাতে ডাক্তার তার স্ত্রীকে নিয়ে এশিয়ান টিভির যশোর প্রতিনিধি শামীমের অফিসে যেয়ে দেখা করেন। এ সময় আসামি রিটন, শামীম, সেতু ভয়ভীতি দেখিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দুই দিনের মধ্যে টাকা না দিলে তার শ্যালিকাকে দিয়ে মামলা করাবেন বলে তারা জানান।
এছাড়া ৮ মার্চ থেকে ১৮ মার্চ পর্যন্ত আসামিরা বিভিন্ন সময় ফোন দিয়ে ও ম্যাসেজ দিয়ে হুমকি দেন।
আসামি সেতু ও নাহিদ ডাক্তারের শ্যালিকাকে ফুসলিয়ে মণিরামপুর নিয়ে আসে। আসামি জাকির ও তহিদুল ডাক্তারের শ্যালিকাকে তাদের হেফাজতে নিয়ে মামলা করতে প্রভাবিত করেন। ডাক্তারের শ্যালিকা মামলা করতে রাজি না হওয়ায় আসামিরা তাকে মণিরামপুর থানায় নিয়ে আটকে রেখে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে মামলা করান।
এর আগে ডাক্তারের শ্যালিকা নিখোঁজের ব্যাপারে একটি জিডি করে মণিরামপুর থানায় খোঁজ নিতে আসেন। আসামিরা তার শ্বশুরকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে থানা থেকে বের করে দেন। এদিন আসামি আব্দুল হাই ডাক্তারকে ফোন করে মামলা থেকে বাঁচতে দেড় লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
এরপর ডাক্তারের শ্যালিকা সেল্টার হোম থেকে মুক্তি পেয়ে আসামিরা তার দিয়ে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা করিয়েছেন বলে প্রেসক্লাব যশোরে সাংবাদিক সম্মেলন করে সকলকে অবহিত করেন।
আসামিরা একে অপরের সহযোগিতায় ধর্ষণ মামলা দিয়ে ডাক্তারকে জেল খাটানোর ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে তিনি আদালতে এ মামলা করেছেন।

