স্বাধীন মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে যশোর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে ঋণখেলাপি, অসম্পূর্ণ কাগজপত্র, দলীয় মনোনয়নপত্র দাখিল না করা ও এক শতাংশ ভোটারের তালিকায় ত্রুটির কারণে মোট ১৮ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৪ জন প্রার্থীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখে তাদের তথ্য হালনাগাদের সুযোগ দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এসব সিদ্ধান্ত দেন, জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশেক হাসান।

যশোর-১ (শার্শা) আসনে ৭ প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন, বিএনপির মফিকুল হাসান তৃপ্তি, স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল হাসান জহির ও শাহজাহান আলী গোলদার।

এ আসনে বিএনপির নুরুজ্জামান লিটন ও জাতীয় পার্টির জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল এই দুই প্রার্থীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।

বৈধ প্রার্থী হিসেবে আছেন, জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ আজীজুর রহমান ও ইসলামী আন্দোলনের বক্তিয়ার রহমান।
যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে ১০ প্রার্থীর মধ্যে ৪ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। ব্যাংক ঋণ সংক্রান্ত জটিলতায় জামায়াত মনোনীত ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, দলীয় মনোনয়নপত্র দাখিল না করায় বিএনপির মোহাম্মদ ইসহাক ও জহুরুল ইসলাম এবং ভোটার তালিকায় ত্রুটির কারণে স্বতন্ত্র মেহেদী হাসানের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
এ আসনে বিএনফের শামসুল হক ও জাতীয় পার্টির ফিরোজ শাহ’র বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।
বৈধ প্রার্থীরা হলেন, বিএনপির সাবিরা সুলতানা, ইসলামী আন্দোলনের ইদ্রিস আলী, বাসদের ইমরান খান ও এবি পার্টির রিপন মাহমুদ।

যশোর-৩ (সদর) আসনে ছয় প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী ও দলের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে ঋণখেলাপি থাকায় তার মনোনয়ন বাতিল হয়।

এ আসনে বৈধ প্রার্থী হিসেবে আছেন, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আব্দুল কাদের, বিএনপির অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জাতীয় পার্টির খবির গাজী, সিপিবির রাশেদ খান ও জাগপার নিজাম উদ্দিন অমিত।

যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর ও বসুন্দিয়া ইউনিয়ন) আসনে ১০ জনের মধ্যে ৪ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন, ঋণখেলাপির দায়ে বিএনপির মনোনীত টিএস আইয়ূব, দলীয় মনোনয়নপত্র দাখিল না করায় বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট সাবেরুল হক সাবু, ভোটার তালিকায় অসত্য তথ্যের কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারহান সাজিদ ও অসম্পূর্ণ মনোনয়নপত্রের জন্য জাতীয় পার্টির জহুরুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

এই আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন, বিএনপির বিকল্প মনোনীত প্রার্থী মতিয়ার রহমান ফারাজী, জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক গোলাম রসুল, স্বতন্ত্র এম নাজিমউদ্দিন আল আজাদ, বিএমজেপির সুকৃতি কুমার মন্ডল, ইসলামী আন্দোলনের বায়েজীদ হোসাইন ও খেলাফত মজলিসের আশেক এলাহী।

যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে ৮ প্রার্থীর মধ্যে ৪ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়। বৈধ প্রার্থীরা হলেন, বিএনপির রশীদ আহমাদ, জামায়াতের গাজী এনামুল হক, ইসলামী আন্দোলনের জয়নাল আবেদীন ও স্বতন্ত্র অ্যাডভোকেট শহীদ ইকবাল হোসেন।

এই আসনে মনোনয়নপত্র অসম্পূর্ণ থাকায় জাতীয় পার্টির এমএ হালিম এবং ১ শতাংশ ভোটার তালিকায় ত্রুটি থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুজ্জামান, এবিএম গোলাম মোস্তফা ও নজরুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে ৫ প্রার্থীর মধ্যে ২ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। বৈধ প্রার্থীরা হলেন, বিএনপির আবুল হোসেন আজাদ, জামায়াতের মোক্তার আলী ও এবি পার্টির মাহমুদ হাসান।

এই আসনে দলীয় অঙ্গীকারনামায় সাক্ষীর স্বাক্ষর না থাকায় জাতীয় পার্টির প্রার্থী জি এম হাসান এবং ঋণখেলাপি হওয়ায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী শহিদুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।

মনোনয়নপত্র বাতিল প্রসঙ্গে যশোর-২ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ জানিয়েছেন, ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত বিষয়টি অনেক আগের। তবে ইতোমধ্যে এর সমাধান হয়েছে। তাই প্রাথমিক বাছাইয়ে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হলেও তিনি আপিল করবেন। যেহেতু সমস্যার সমাধান হয়েছে তাই তিনি মনোনয়ন ফিরে পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশেক হাসান জানান, বাতিল হওয়া প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী ৭ জানুয়ারির মধ্যে আপিল করতে পারবেন।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, যশোরের ৬টি আসনে মোট ৪৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর আগে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন ৭১ জন।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি, প্রতীক বরাদ্দ ২১ জানুয়ারি এবং প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি।

Share.
Exit mobile version