কাজী নূর

দাম কম, দাম কম, অল্প টাকায় ব্যাগ ভর্তি, নিয়ে যান-নিয়ে যান বলে হাঁকছেন বিক্রেতা।’ কাছে গেলে বিক্রেতা মারুফ হোসেন জানান ‘সব তরকারি সস্তা। ২০ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে অনেক তরকারি পাবেন।’ আরেক বিক্রেতা আইয়ুব আলী বলেন, ‘ভাই পরিমাণে যদি একটু বেশি করে নেন তাহলে বাজার ছাড়া দাম কম নেবো।’

শুক্রবার সকালে যশোরের হাজী মোহাম্মদ মহসিন রোড বড়বাজারে বাংলার ভোর প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় সবজি বিক্রেতা মারুফ হোসেন, আইয়ুব আলী, ইন্তাজ বিশ্বাসসহ কয়েকজনের সঙ্গে।

তাদের কথার সূত্রে বড়বাজারে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে বর্তমানে মানভেদে ঢেরস কেজি প্রতি ২০ টাকা, ধুন্দল ২০ টাকা, পটল ২০ টাকা, পুঁইশাক ২০ থেকে ৩০ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ১০০ টাকা, বরবটি ৪০ থেকে ৬০ টাকা, কাঁচা কলা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কাকরোল ৫০ টাকা, টমেটো ১০০ থেকে ১২০ টাকা, গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকা, কুশি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পেঁপে ২০ থেকে ৪০ টাকা, কুমড়ো ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ওল ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৬০ টাকা, সবুজ শাক ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ডাটা ২০ থেকে ৩০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ফুলকপি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, উচ্চে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, করলা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, আমড়া ৪০ টাকা, কচুর লতি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কচুর মুখি ৩০ থেকে ৫০ টাকা, শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, মানকচু ৬০ থেকে ৮০ টাকা বিক্রি হয়েছে। এছাড়া পিস হিসেবে লাউ ৩০ থেকে ৫০ টাকা ও চাল কুমড়ো ৩০ থেকে ৪০ টাকা পিস বিক্রি হয়েছে।

বাজারে কথা হয় প্রাইমারি স্কুল শিক্ষক সাধন কুমার দেবনাথ এর সঙ্গে। তিনি বাংলার ভোরকে বলেন ‘তরকারির দাম এখন বেশ সস্তা। আমরা যারা কিনে খাই সস্তার বাজার তাদের জন্য আনন্দের। তবে সেটা চাষির জন্য কোনভাবেই সুখকর নয়। কারন চাষি বাঁচলেই কৃষি বাঁচবে। খুচরা পর্যায়ে যে মাল ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে আদতে সেটির উৎপাদন খরচ কত সেটি নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। ২০ টাকার ধুন্দল বা ঢেরসে চাষি ৮ থেকে ১০ টাকা পেয়েছে কিনা সেটা সন্দেহ থেকে যায়। কারন চাষি থেকে খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত পৌঁছাতে পরিবহন খরচ, আড়ত, খাজনাসহ অন্তত ৪টি মাধ্যম কাজ করে নিয়মিত ব্যয় রয়েছে। তাহলে বুঝুন যে সর্বোচ্চ শ্রম দিয়ে ফসল উৎপাদন করছে তার হাতেই আমরা মূলা ধরিয়ে দিচ্ছি। এজন্য রাষ্ট্র এবং বেসরকারি পর্যায়ে সবাইকে চাষির সুরক্ষায় যুতসই পদক্ষেপ নিতে হবে।’

মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে বর্তমানে আড়াই কেজি সাইজের রুই মাছ ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা, সাড়ে ৩ কেজি ৪ কেজি সাইজের কাতলা ৪০০ থেকে ৪৩০ টাকা, পাঙাশ ১৮০ থেকে ২৩০ টাকা, বাটা ১৪০ থেকে ৩০০ টাকা, বাগদা চিংড়ি ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা, হরিণা চিংড়ি ৮০০ থেকে ৮৮০ টাকা, টেংরা ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, শোল ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা, কৈ ১৮০ থেকে ২৩০ টাকা, নাইলোটিকা ১৬০ থেকে ২২০ টাকা, পাবদা ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে।

বিক্রেতা রতন বিশ্বাস বলেন, শুক্রবার হিসেবে বাজার ভালো। বাজারে মাছের সরবরাহ পর্যাপ্ত।

শহরের হরিণাথ দত্ত লেনের বাসিন্দা খাইরুল ইসলাম বলেন, বাজারে আজ ছোট মাছের তুলনায় বড় মাছের দাম বেশি। রুই কাতলার গায়ে আগুন।

মুরগির বাজার ঘুরে দেখা গেছে বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা, লেয়ার ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা ও সোনালি ২৯০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে।

সাদ্দাম ব্রয়লার হাউজের স্বত্বাধিকারী সাদ্দাম মোল্লা জানান, গত সপ্তাহের তুলনায় আজ সবরকম মুরগির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে।

শহরের খালধার রোড বরফকল মোড়ের বাসিন্দা শরীফ হোসেন বলেন, মাছের দামও বেশি আবার আজ দেখছি মুরগির দাম বেড়েছে।

মুদিপণ্যের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে খোলা সয়াবিন তেল কেজি প্রতি ২০২ থেকে ২০৬ টাকা, সরিষার তেল ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, পাম তেল থেকে ১৮৫ টাকা, পোলাও চাল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, আটা ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, ময়দা ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, মুগ ডাল ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা, মসুরির ডাল ১০০ থেকে ১৬০ টাকা, ছোলার ডাল ৯০ থেকে ১০০ টাকা, বুটের ডাল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, সাদা চিনি ১০৫ টাকা, লাল চিনি ১২০ থেকে ১২৫ টাকা, আলু ২৫ টাকা, পেঁয়াজ ৩৩ থেকে ৩৫ টাকা, রসুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা ও আদা ১৬০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। এছাড়া লাল ডিম ৩৬ থেকে ৪০ টাকা ও সাদা ডিম ৩৪ থেকে ৩৫ টাকা হালি বিক্রি হয়েছে।

মুদিপণ্য বিক্রেতা মানিক স্টোরের স্বত্বাধিকারী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ভোজ্যতেল সয়াবিনের দাম কিছুটা কমেছে। এছাড়া সবকিছুর দাম স্থিতিশীল রয়েছে।

চালের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে কেজি প্রতি বাসমতি চাল ৭৬ থেকে ৭৮ টাকা, পাইজাম ৪৯ টাকা, স্বর্ণা ৫২ থেকে ৫৩ টাকা, আটাশ ৫২ থেকে ৫৪ টাকা, মোটা ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, নাজিরশাইল ৮৫ থেকে ৮৮ টাকা, বিল আমন ৬০ টাকা, মিনিকেট ৫৮ থেকে ৬০ টাকা ও কাজললতা ৪৯ টাকা বিক্রি হয়েছে।

চাল বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান উত্তম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী চিত্তরঞ্জন সাহা বলেন, এখন নতুন চালের মৌসুম। সবাই নতুন চাল কিনছে। দাম বৃদ্ধির কোন আশংকা নেই।

শহরের নতুন উপশহরের বাসিন্দা গৃহিণী নাজমা জামান রথি জানান, সংসারে সারা বছরে যা চাল লাগে তা এ মৌসুমে কিনে রাখি। আজ ৭ বস্তা অর্থাৎ ১৭৫ কেজি বাসমতি চাল কিনেছি। যা দোকানদার নিজ দায়িত্বে আমার গৃহে পৌঁছে দেবেন।

Share.
Exit mobile version