বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোরে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে নাইমুর রহমান হিমেল (৪২) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সদর উপজেলার মালিডাঙ্গা গ্রামের শম্ভুনাথ মল্লিক ও তার ছেলে বিপুল মল্লিক এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে নিহতের পরিবার দাবি করেছে। গত ২১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে এই ঘটনার পর লাশের ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এই ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত কাজী নাইমুর রহমান হিমেল সদর উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের দেয়াপাড়া গ্রামের মশিয়ার রহমানের ছেলে।
হিমেলের পরিবারের অভিযোগ, যশোর সদর উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের মালিডাঙ্গা গ্রামের শম্ভুনাথ মল্লিকের সাথে তাদের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। শম্ভুনাথ ও তার ছেলে হিমেলদের জমিটি জবরদখলের জন্য চেষ্টা করে আসছিল। গত বুধবার দুপুরে শম্ভুনাথ ও তার ছেলে বিপুল ওরফে বিপ্লব জমি দখল চেষ্টা নিয়ে হিমেলের সাথে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তারা হিমেলকে মারপিট করলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু এর আগেই তার মৃত্যু হয়। এ সময় হামলাকারীরা গ্রামে প্রচার করেন হিমেলের স্ট্রোকে মৃত্যু হয়েছে।
হিমেলের শ্যালক মাসুদুর রহমান অভিযোগ করেন, শম্ভুনাথের ছেলে বিপুল ওরফে বিপ্লব এদিন হিমেলের বুকে কয়েকটি ঘুষি মারলে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, ওই দিন বিকেলে খবর পেয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা, নরেন্দ্রপুর পুলিশ ক্যাম্প এবং পিবিআই ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ হিমেলের মৃতদেহ উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, জমি নিয়ে বিরোধে মারামারির মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হিমেল মারা গেছে। তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তবে পরিবারের দাবি অনুযায়ী এই ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
এই ব্যাপারে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক বিচিত্র মল্লিক জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে এবং সুরতহাল রিপোর্টে হিমেলের গায়ে আঘাতের কোন চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ভিসেরা রিপোর্টের জন্য আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।

Share.
Leave A Reply Cancel Reply
Exit mobile version