বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক আইরিন পারভীন এবং যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক রাশেদুর রহমানের আদালত বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতি। বিচারিক অদক্ষতা, আইনজীবীদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
সোমবার দুপুরে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতি ভবন-১-এ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সমিতির নেতৃবৃন্দ এই ঘোষণা দেন। এর আগে সমিতির এক জরুরি সাধারণ সভায় উপস্থিত সদস্যরা এই বর্জন প্রস্তাবের পক্ষে মত দেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চার দিন এই দুই বিচারকের আদালত বর্জন করছেন আইনজীবীরা।
সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ আইরিন পারভীন বিচারিক ক্ষেত্রে যথাযথ ‘জুডিশিয়াল মাইন্ড’ প্রয়োগে ব্যর্থ হচ্ছেন এবং আইন ও বিচার সম্পর্কে তার পেশাগত দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এছাড়া তিনি সিনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গে তুচ্ছতাচ্ছিল্য ও অবজ্ঞাসূচক আচরণ করে নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেন। সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সিনিয়র আইনজীবীরা একাধিকবার তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করলেও তিনি আচরণ পরিবর্তন করেননি। এ অবস্থায় শতাধিক আইনজীবীর স্বাক্ষরিত আবেদনের ভিত্তিতে সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তার আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
অন্যদিকে, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক রাশেদুর রহমানের বিরুদ্ধেও এর আগে অনিয়ম ও অসদাচরণের অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেন আইনজীবীরা।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও পিপি সৈয়দ এ এইচ সাবেরুল হক সাবু বলেন, বিচারক আইনজীবীদের ওপর বিভিন্ন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছেন। তিনি আইনজীবীদের বাদ দিয়ে পুলিশ প্রটোকলের মাধ্যমে আদালত পরিচালনা করছেন এবং আইনজীবীদের প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছেন। এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি ইতোমধ্যে আইন ও বিচার বিভাগে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে এবং জেলা প্রশাসকের কাছেও স্মারকলিপি দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, যশোরের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় তিন মাস ধরে জেলা জজ না থাকায় বিচারপ্রার্থীরা সঠিকভাবে বিচার পাচ্ছেন না। এতে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম এ গফুর, সাবেক সভাপতি এম ইদ্রিস আলী, কাজী ফরিদুল ইসলাম, শরীফ নূর মো. আলী রেজা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম বাচ্চু, আবু সালেহ মো. জাফর সাদিক, আর এম মঈনুল হক ময়না, সোহেল শামীমসহ সমিতির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
