বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোর সদর উপজেলার ওসমানপুর গ্রামের বাসিন্দা সুজন কুমার শিকদার বসতভিটা থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ, হামলা, ভাঙচুর ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায় হিসেবে হয়রানির অভিযোগ এনে ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।
সোমবার প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, তার পিতা সুবল শিকদার প্রায় ১৭ বছর ধরে মৌখিক এওয়াজ বদলের মাধ্যমে চাচার জমিতে বসবাস করে আসছেন। প্রথমে কাঁচা ঘরে ১১ বছর এবং পরে প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত চার কক্ষের পাকা বাড়িতে গত ৬ বছর ধরে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, পাশ্ববর্তী গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মোস্তফা তাদের বসবাসরত জমি কেনার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে বিভিন্ন কৌশলে জমিটি তার ভাইয়ের নামে রেজিস্ট্রি করিয়ে নেন।
সংবাদ সম্মেলনে সুজন শিকদার দাবি করেন, গত ২২ এপ্রিল বিএনপি নেতা সহিদুল ইসলাম, মিঠু, বিল্লালসহ ২০ থেকে ৩০ জন তাদের বাড়িতে গিয়ে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করেন, বাড়িতে ভাঙচুর চালান এবং প্রায় দুই লাখ টাকার মালামাল নষ্ট করেন। পরে বিষয়টি স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনকে জানালে প্রশাসনের সহযোগিতায় তারা পুনরায় বাড়িতে উঠতে সক্ষম হন এবং বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস পান।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২২ জুন গোলাম মোস্তফা, সহিদুল ইসলামসহ কয়েকজন আবারও তাদের বাড়িতে গিয়ে হামলা ও মারধর করেন এবং বাড়ি ছেড়ে দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতা ও এলাকাবাসী বাধা দিতে গেলে তাদেরও হুমকি দেয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন। একই দিনে কাশিমপুরের বিএনপি নেতা ইকরামুলের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সুজন শিকদার বলেন, গত ২২ জুন থেকে তিনি বৃদ্ধ বাবা-মাকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, তারা হিন্দু সম্প্রদায়ের হওয়ায় বৈষম্যের শিকার হয়েছেন কি না, সেটিও তদন্ত হওয়া উচিত।
তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সরকারের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের বসতভিটায় পুনর্বাসনের দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন।

