বাংলার ভোর প্রতিবেদক
গ্যাস, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের তাৎক্ষণিক উদ্যোগ এবং নিত্যপণ্যের বাজার দর ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের তথ্য সংবলিত লিফলেট বিতরণ করেছে যশোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল। শনিবার শহরের এইচ এম এম রোড, কাপুড়িয়া পট্টিতে ব্যবসায়ী ও জনসাধারণের মাঝে এই লিফলেট বিতরণ করেন নেতৃবৃন্দ।
আওয়ামী লীগ শাসনামলে দেশে বিদ্যুৎ খাতের সংকট শুরুর কথা উল্লেখ করে লিফলেটে বলা হয়, তাদের ভুল সিদ্ধান্ত ও দুর্বল পরিকল্পনার খেসারত দিতে হচ্ছে জনগণকে। আওয়ামী লীগ সরকার গত দেড় দশকে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করেছে। তবে জ্বালানি কোথা থেকে আসবে এবং এর অর্থের যোগান কিভাবে হবে সেই বাস্তবতা বিবেচনা করে পরিকল্পনা নেয়নি। ফলে প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে।
কিন্তু সক্ষমতা থাকলেও জ্বালানি ও অথের্র অভাবে পর্যাপ্ত উৎপাদন বাড়েনি। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অর্ন্তবর্তী সরকারও বিদ্যুতের এই সংকট সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত দৈনিক প্রথম আলোর সংবাদে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের পর দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা পাঁচ গুণের বেশি বেড়েছে। কিন্তু প্রকৃত উৎপাদন বেড়েছে ৩ দশমিক ৬ গুণ। অন্যদিকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভাড়া বা ক্যাপাসিটি চার্জ বেড়েছে প্রায় ১৬ গুণ। মূলত বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে আওয়ামী লীগের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে।
কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেই জনবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যার মধ্যে রয়েছে দেশের মোট গ্রাহকের শতকরা ৬৪ ভাগ লাইফলাইন গ্রাহকদের ট্যারিফ না বাড়ানোর উদ্যোগ। ৮টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুক্তি পর্যালোচনা করে বিদ্যুতের মূল্য কমানো। আরও ৫১টি বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে উৎপাদিত বিদ্যুতের মূল্য হ্রাসের জন্য নেগোসিয়েশনের আওতায় আনা।
সংকট মোকাবেলায় চুক্তি সমাপ্ত হওয়া কিছু বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে ক্যাপাসিটি চার্জ ছাড়াই শুধু উৎপাদিত বিদ্যুতের মূল্য পরিশোধের শর্তে পুনরায় উৎপাদনে আনা। ভর্তুকি কমাতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানি লেভেলাইজড ট্যারিফ ৮ দশমিক ৪৪ টাকা করা। শিল্প বিদ্যুৎ খাতে গ্যাস সরবরাহের ভারসাম্য রক্ষার জন্য ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সমূহ চালু রাখতে জরুরি ভিত্তিতে ছয় হাজার কোটি টাকার ফার্নেস অয়েল আমদানি। বিনিয়োগ বাড়াতে জাতীয় রফটপ সোলার প্রোগ্রাম ২০২৫-এর প্রতিবন্ধকতা দূর করা। সৌর যন্ত্রপাতির আমদানি শুল্ক শতকরা ৬৪ থেকে কমিয়ে ১ ভাগ করা। খাত-সংশ্লিষ্ট অগ্রিম আয়কর শতকার ১৫ ভাগ থেকে কমিয়ে ১ ভাগ করা। রুফটপ সোলারের উদ্বৃত্ত বিদ্যুতের জন্য সরকার ইউনিটপ্রতি ১০ দশমিক ৫০ টাকা প্রণোদনা চালু। বেসরকারি রপ্তানিমুখি শিল্পে নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসির আওতায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের অনুমতি প্রদান।
লিফলেট বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার রবিউল ইসলাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মোস্তফা আমীর ফয়সাল, সদস্য সচিব রাজিদুর রহমান সাগর, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আলী হায়দার রানাসহ যশোর জেলা, নগর ও সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃবৃন্দ।
