নড়াইল সংবাদদাতা
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত দেশব্যাপি ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের অঙ্গীকারের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার লক্ষ্যে নড়াইলের পানিপাড়া, নড়াগাতীতে অবস্থিত অরুণিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাবের উদ্যোগে ২৫ হাজার বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দিনব্যাপি ‘ড. রাফি-ড. বেগম মেমোরিয়াল জুনিয়র গলফ টুর্নামেন্ট ২০২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার সকালে অরুণিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাব প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে গাছের চারা বিতরণ ও জুনিয়র গলফ খেলোয়াড়দের পুরস্কার দেয়া হয়।
অনুষ্ঠানে অরুণিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাব কমিটির সভাপতি খবির উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন, বিশিষ্ট ক্রীড়ানুরাগী ও ক্রীড়া সংগঠক, স্পোর্টস অ্যানালিস্ট ও কনসালট্যান্ট অনুপম হোসেন।
এ ছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিবৃন্দ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি, স্থানীয় স্কুল-কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং ক্ষুদে ও জুনিয়র গলফাররা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত দেশব্যাপি ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে অরুণিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাব ২৫ হাজার বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর আওতায় স্থানীয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, স্থানীয় প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
স্বাগত বক্তব্যে অরুনিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাবের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইরফান আহমেদ বলেন, “নড়াইলের পানিপাড়া গ্রাম দীর্ঘদিন ধরে ‘পাখির গ্রাম’ হিসেবে পরিচিত। সেই প্রাকৃতিক ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রেখেই পানিপাড়া এখন ‘গলফের গ্রাম’ হিসেবেও পরিচিতি অর্জন করেছে। একই গ্রামের প্রায় ৩০-৪০ জন শিশু-কিশোর গলফ খেলছে। আমার জানা মতে, দেশে কিংবা বিদেশে একই গ্রামের এতসংখ্যক শিশু-কিশোর একসঙ্গে গলফ খেলার এমন নজির নাই। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।
এই পরিচিতিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। পরিকল্পিত উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক প্রচারের মাধ্যমে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার গলফ ট্যুরিজমের সম্ভাবনাময় বাজারে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করতে পারে। এর ফলে বিদেশি গলফার ও পর্যটকদের আকর্ষণের মাধ্যমে শত শত কোটি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের পর্যটনশিল্প ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া উন্নয়নের আহ্বান বিশেষ অতিথি বিশিষ্ট ক্রীড়ানুরাগী ও ক্রীড়া সংগঠক, স্পোর্টস অ্যানালিস্ট ও কনসালট্যান্ট অনুপম হোসেন তরুণ প্রজন্মের ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, প্রতিযোগিতা ও উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি তৃণমূল পর্যায়ে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি তাঁদের শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্বের গুণাবলি ও ক্রীড়াসুলভ মনোভাব গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পর্যটন ও পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব প্রধান অতিথি ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ পরিবেশ সংরক্ষণ ও দেশের পর্যটনশিল্পের বিকাশে এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি অরুনিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাবের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বিস্তীর্ণ সবুজ প্রান্তর, জলাশয়, পরিযায়ী পাখির বিচরণ এবং গলফ সুবিধাকে বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের জন্য একটি সম্ভাবনাময় সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেন। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি গলফ ট্যুরিজম এবং ইকো-ট্যুরিজমের সমন্বিত বিকাশের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণের সুযোগ রয়েছে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
জুনিয়র গলফ টুর্নামেন্ট ও পৃষ্ঠপোষকের বক্তব্য
১৬ ও ১৭ অক্টোবর অরুনিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাবে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী ‘ড. রাফি-ড. বেগম মেমোরিয়াল জুনিয়র গলফ টুর্নামেন্ট ২০২৬’-এ ক্লাবের ক্ষুদে ও জুনিয়র গলফারদের পাশাপাশি স্থানীয় উদীয়মান গলফাররা অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ও কৃতী গলফারদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
এ টুর্নামেন্টের পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করেন বিশিষ্ট ক্রীড়ানুরাগী ও ক্রীড়া সংগঠক এ কে এম শহীদুল আলম।
অনুষ্ঠানের সভাপতি খবির উদ্দিন আহমেদ বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে আমরা ২৫ হাজার বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছি। আজ প্রথম পর্যায়ে ১২ হাজার গাছ রোপণ ও বিতরণ করা হবে এবং আগামী এক বছরের মধ্যে অবশিষ্ট ১৩ হাজার গাছ রোপণ ও বিতরণের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।”
উল্লেখ্য, অরুনিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাব বাংলাদেশের একমাত্র বেসরকারি মালিকানাধীন ও বাংলাদেশ গলফ ফেডারেশনের অধিভুক্ত গলফ ক্লাব। এর বিস্তীর্ণ সবুজ প্রান্তর, প্রাকৃতিক জলাশয়, হাজার হাজার পরিযায়ী পাখির বিচরণ, গলফ কোর্স ও আবাসন সুবিধা গলফ, জীববৈচিত্র্য, ইকো-ট্যুরিজম ও গ্রামীণ পর্যটনের এক অনন্য সমন্বয় সৃষ্টি করেছে।
