বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোরে শীতের তীব্রতা বাড়লেও তিনদিন পর সূর্যের দেখা মিলেছে। রোদের উত্তাপে হাড়ের কাঁপন কিছুটা কমলেও দুর্ভোগ কমেনি। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষ এই শীতে দুর্বিসহ জীবনযাপন করছে।
বুধবার যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে বগুড়ার বদলগাছীতে ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, গত ৩১ ডিসেম্বর গোপালগঞ্জে মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল। এরপর মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজশাহীতে তাপমাত্রা নেমে যায় ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। বুধবার এই মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে বগুড়ার বদলগাছীতে ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
যশোর বিমান বাহিনী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বুধবার যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মঙ্গলবার ভোরে যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন যশোরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সোমবার ভোরে যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন যশোরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ১২দিন ধরেই এই জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে অবস্থান করছে। এই মৌসুমে চারদিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ ডিগ্রি থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়ামের মধ্যে নেমে আসলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, ৬ দশমিক ১ ডিগ্রি থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়ামের মধ্যে নেমে আসলে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ, ৪ দশমিক ১ ডিগ্রি থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়ামের মধ্যে নেমে আসলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ এবং তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়ামের নিচে নেমে গেলে তাকে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়।
এদিকে, যশোরে শৈত্যপ্রবাহের তীব্রতা বাড়লেও তিনদিন পর বুধবার সূর্যের দেখা মিলেছে। ফলে দিনের বেলায় শীতের কাঁপুনি কিছুটা কমেছে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে শহরে লোক সমাগমও বেড়েছে। যদিও গত তিনদিন ধরেই এই শীতের অনুভূতি ছিল দূর্বিষহ।
কারণ সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পাশাপাশি যশোরে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও ১৫-১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ঘোরাফেরা করেছে। এাড়া এখন প্রতিদিনই রাত থেকেই কুয়াশার জাল ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে। ভোরে কুয়াশা গাঢ় হয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে দিনভর হিমেল হাওয়ায় কাঁপন জাগাচ্ছে হাড়ে। ফলে মানুষজনের স্বাভাবিক কর্মকান্ড ব্যাহত হচ্ছে।
শহরের বারান্দিপাড়া এলাকার রিকশাচালক রবিউল হোসেন জানান, গত তিনদিন সারাদিন কুয়াশা, আর বাতাস ছিল। ফলে ঠিকমত রিকসা চালাতে পারিনি। আজ (বুধবার) একটু রোদ উঠেছে। তাই দিনের বেলায় রিকসা চালানো যাচ্ছে। কিন্তু ঠান্ডার কারণে সকাল আর সন্ধ্যায় রিকসা চালানো যাচ্ছে না। হাত পা অবশ হয়ে যাচ্ছে।
ধর্মতলা এলাকার বাসিন্দা রিকসাচালক আলী হোসেন জানান, দুপুর বেলায় রিকসা নিয়ে বের হয়ে যে কয়টাকা আয় হচ্ছে তাই নিয়ে সন্ধ্যার আগেই বাড়ি ফিরে যাচ্ছি। শীতে রাস্তাঘাটে মানুষ কম বের হচ্ছে। তাই ভাড়াও কম পাওয়া যাচ্ছে। আর সকাল ও রাতে তো ভাড়াই পাওয়া যাচ্ছে না।
শংকরপুর এলাকার গৃহবধূ ইয়াসমিন আক্তার জানান, সন্ধ্যারাতেই রেলগেট থেকে শংকরপুর যাওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় রাস্তায় কোনো রিকসা মেলেনি। শীতের কারণে রাতে রাস্তায় মানুষ চলাচলও অনেক কমে গেছে।
এদিকে, প্রচণ্ড শীতের কারণে শুধু গরম কাপড়ে শীত মোকাবেলা করা যাচ্ছে না। তাই কাঠের টুকরো, কাগজ কিংবা খড়কুটো জ্বালিয়ে গ্রামে শহরে সবখানে আগুনের ওম নেওয়ার চেষ্টার দৃশ্য নজরে পড়ছে।
আর শহরের রেলস্টেশন, বাসটার্মিনাল, অফিস-আদালতের বারান্দায় রাত কাটানো মানুষগুলো জবুথুবু পড়ে থাকতে দেখা যায়।
