বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোরে এক হাজার ২৮৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে এক হাজার ৩৯ টিতে শহিদ মিনার নেই। আছে মাত্র ২৫০ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। যেসব বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার নেই সেখান শিক্ষার্থীদের কলাগাছ, কাঠ অথবা মাটি দিয়ে তৈরি অস্থায়ী শহিদ মিনার কিংবা অন্য প্রতিষ্ঠানের শহিদ মিনারে গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে হয়। এ নিয়ে নানা ধরনের বিরূপ মন্তব্য রয়েছে। শিক্ষাবিদরা বলছেন, সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিভিন্ন খাতে প্রতিবছর অনুদান দিচ্ছে। যার একটি অংশ লুটপাট হয়ে যায়। অনেক বিদ্যালয়ে এসব খাতের টাকা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আর প্রধান শিক্ষকরা ভাগাভাগি করে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও কোনো কোনো বিদ্যালয়ে বরাদ্দের পুরো অর্থ ব্যয় হচ্ছে।
এ বিষয়ে যশোর শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আমিরুল আলম খান বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো পুরোপুরি সরকারি অর্থায়নে চলে। এ কারণে শহিদ মিনার নির্মাণের দায় একেবারেই সরকারের। সরকারি উদ্যোগেই শহিদ মিনার হওয়া উচিত।’ শিক্ষা কর্মকর্তাদের দাবি, প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানীয়ভাবে অনুদান সংগ্রহ করে শহিদ মিনার নির্মাণ করার পরামর্শ দেয়া হয়। এজন্য আলাদা কোনো বরাদ্দ নেই।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, যশোরের আট উপজেলায় মোট এক হাজার ২৮৯ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২৫০, চৌগাছায় ১৩৯, ঝিকরগাছায় ১৩১, কেশবপুরে ১৫৮, শার্শায় ১২৫, অভয়নগরে ১১৭, মণিরামপুরে ২৬৭ ও বাঘারপাড়ায় ১০২ টি। তথ্যানুযায়ী, সদর উপজেলায় ২৫০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ২৪, চৌগাছার ১৩৯ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৮, ঝিকরগাছার ১৩১ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৯, কেশবপুরের ১৫৮ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৭, শার্শার ১২৫ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৪, অভয়নগরের ১১৭ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫৩, মণিরামপুরের ২৬৭ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৮৫ ও বাঘারপাড়ার ১০২ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২০ টিতে শহিদমিনার রয়েছে।
যশোর সদর উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের দত্তপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল জব্বার বলেন, ‘শহিদমিনার নির্মাণে কোনো বরাদ্দ নেই। আর স্থানীয়ভাবে হাজার হাজার টাকা জোগাড় করে শহিদমিনার নির্মাণ করা অসম্ভব ব্যাপার। একমাত্র সরকারি অর্থায়ন ছাড়া সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহিদমিনার নির্মাণ সম্ভব না।’
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলম বলেন, ‘শহিদমিনার নির্মাণে সরকারিভাবে বরাদ্দ না থাকায় অনেক স্কুলে তা নেই। তারপরও সব স্কুল কর্তৃপক্ষকে স্থানীয়ভাবে অর্থ জোগাড় করে শহিদমিনার নির্মাণে উদ্বুদ্ধ করা হবে।’