বাংলার ভোর প্রতিবেদক
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোরে তিনটি আসনে ৩ প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন মঙ্গলবার এই ৩ জন নিজেদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। তারা হলেন, যশোর-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান জহির, যশোর-৩ আসনে এনসিপির খালিদ সাইফুল্লাহ ও যশোর-৪ স্বতন্ত্র সাজিদ ফারহান। তবে যশোর-২ ও যশোর-৫ আসনে বিএনপির দুই বিদ্রোহী প্রার্থী তাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেননি।
ফলে আসন দুটিতে জামায়াত, স্বতন্ত্র ও বিএনপি প্রার্থীদের মধ্যে ত্রিমুখি লড়াইয়ে জমে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। এর আগে ছয়টি আসনে ৪৭ জন মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। যাচাই বাছাইয়ে ৩৮ জন প্রার্থী টিকে থাকলেও প্রত্যাহারের মাধ্যমে জেলার ছয়টি আসনে চূড়ান্ত দুই বিদ্রোহীসহ ৩৫ জন।
চূড়ান্ত প্রার্থীরা হলেন- যশোর-১ (শার্শা) আসনে বিএনপির নুরুজ্জামান লিটন, জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ আজীজুর রহমান, জাতীয় পার্টির জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বক্তিয়ার রহমান।
যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে বিএনপির সাবিরা সুলতানা, জামায়াতে ইসলামীর মোহম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ইদ্রিস আলী, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ইমরান খান, বিএনপির স্বতন্ত্র জহুরুল ইসলাম, স্বতন্ত্র মেহেদী হাসান, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) শামছুল হক, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) রিপন মাহমুদ।
যশোর-৩ (সদর) বিএনপির অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেন, জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল কাদের, জাতীয় পার্টির খবির গাজী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) নিজামদ্দিন অমিত, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (বাসদ) রাশেদ খান।
যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনে বিএনপির মতিয়ার রহমান ফারাজী, জামায়াতে ইসলামীর গোলাম রসুল, স্বতন্ত্র এম নাজিম উদ্দীন আল আজাদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বায়েজীদ হোসাইন, খেলাফত মজলিসের মাওলানা আশেক এলাহী, জাতীয় পার্টির জহুরুল হক ও বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি) সুকৃতি কুমার মন্ডল।
যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে জাতীয় পার্টির এমএ হালিম, জামায়াতে ইসলামীর গাজী এনামুল হক, ইসলামী আন্দোলনের জয়নাল আবেদিন, স্বতন্ত্র শহীদ মো. ইকবাল হোসেন, বিএনপির রশীদ আহমাদ।
যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে জাতীয় পার্টির জিএম হাসান, বিএনপির আবুল হোসেন আজাদ, এবি পার্টির মাহমুদ হাসান, জামায়াতে ইসলামীর মুক্তার আলী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শহিদুল ইসলাম।
এদিকে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশেক হাসান জানান, ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী বুধবার সকাল ৯টা থেকে প্রতীক বরাদ্দ হবে। আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের প্রচার প্রচারণা শুরু হবে।
ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে। ভোটের পরিবেশ অবাধ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে মাঠে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যশোরে ছয়টি আসনে ২৪ লাখ ৭১ হাজার ৯০৮ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
৮২৪ ভোট কেন্দ্রের ৪ হাজার ৬৭৯ ভোট কক্ষে ১৪ হাজার ৮৬১ ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে প্রিজাইডিং অফিসার ৮২৪, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ৪ হাজার ৬৭৯ ও পোলিং অফিসার ৯ হাজার ৩৫৮।
