সোহাগ হোসেন, বাগআঁচড়া
যশোরের শার্শা উপজেলার বেলতলা বাজারে বাণিজ্যিকভাবে জমে উঠেছে মৌসুমী ফল কুল (বরুই) এর বাজার। কুল ও আম মৌসুমে মুখরিত হয়ে ওঠে এখানকার সব আড়তগুলো। প্রতিদিন এখান থেকে ছোট বড় প্রায় ২০ থেকে ২৫ ট্রাক কুল রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে রপ্তানি হচ্ছে।
যশোর-সাতক্ষীরা জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা শার্শা ও কলারোয়া জিরো পয়েন্ট বেলতলা নামক স্থানে অবস্থিত বাজারটিতে বর্তমানে থাইআপেল কুল ১২০/১৩০ টাকা, বলসুন্দরী কুল ১০০/১২০ টাকা, নারকেল কুল ৮০/৯০ টাকা, চায়না কুল ১২০ এবং টককুল ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
স্থানীয় কুলচাষি মোশারাফ হোসেন জানান, তিনি গত ১০ বছর ধরে কুলচাষ করছেন। এ বছরও তিনি ৪ বিঘা জমিতে কুল চাষ করেছেন। গত বছরের থেকে এ বছর তার অনেক বেশি কুল হয়েছে এবং দামও ভলো পাচ্ছেন। তিনি আরও জানান, যদি এভাবে শেষ পর্যন্ত কুল বিক্রি করতে পারেন তাহলে অনেক লাভবান হবেন।
ঢাকা থেকে কুল কিনতে আসা বেপারী মাহাতাব, দেলোয়ার ও বশির জানান, তারা দীর্ঘদিন কুল, আম, পেঁয়ারা তরমুজসহ সিজনাল ফলের ব্যবসা করেন। যে কারণে শীত মৌসুমে বেলতলা ফল মুকামে আসেন। এ বছর কুলের দাম অনেক বেশি, যার কারণে লাভের পরিমাণ কম, তারপরও আমরা যেমন বেশি দামে কুল কিনছি, ঠিক তেমনই বেশি দামে বিক্রি করছি। এবছর বাজারে চাহিদা বেশি থাকায় কুল কিনে ভালো দামে বিক্রি করতে পারছেন বলে তারা জানান। সিলেট থেকে আসা বেপারী শহিদ জানান, এই অঞ্চলের ফলের স্বাদ ভালো, ক্রেতারাও বেশি বেশি কেনে। যে কারণে প্রতিবছর এই মুকাম থেকে কুলসহ বিভিন্ন ফল কিনতে আসি, ব্যবসায় লাভ-লস দুটোই হয়।
বেলতলা বাজারের স্থানীয় আড়তদার আবুল কালাম, রফিক, শাহারুল ইসলাম জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর কুলের ফলন অনেক বেশি। সেই সঙ্গে কুলের চাহিদা ও দাম বেশি থাকায় ব্যবসা ভালো এবং চাষিরাও খুশি। বেলতলা বাজারে চাষিরা সঠিক ওজন এবং সঠিক মূল্যে কুল বিক্রি করতে পারেন। তাই তারা নিঃসন্দেহে এ বাজারে ফুল বিক্রি করতে আসেন। এ বাজারে প্রতিদিন বেলা ১১ টা থেকে সন্ধ্যা ৫ টা পর্যন্ত কুল বেচাকেনা চলে বলে জানান আড়তদাররা।
বেলতলা বাজার কমিটির সহ-সভাপতি এরশাদ গাজী জানান, চাষি ও ব্যবসায়ীরা যাতে নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে পারে সেজন্য বাজারে সব ধরনের ব্যবস্থা আছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর বাজারে অনেক কুল আমদানি হচ্ছে, বেপারিও বেশি এসেছে। এভাবে যদি আরও ২/৩ বছর যায় তিনি আশাবাদী বেলতলা ফলের মুকাম দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে বিখ্যাত ফল বাজার হিসেবে পরিচিতি অর্জন করবে।
এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা জানান, চলতি মৌসুমে ১৪৮ হেক্টর জমিতে ৫১০ জনের মত চাষি কুল চাষ করেছেন। এ বছর থাইআপেল, বলসুন্দরী, চায়না, টকমিষ্টি কুলগুলোই চাষিরা বেশি চাষ করেছেন এবং লাভবানও হয়েছেন। কম খরচে অধিক লাভ হওয়াতে দিনে দিনে অন্য কৃষকরা কুল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

