বাংলার ভোর প্রতিবেদক
হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার মান, গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া, চাকরিতে প্রশ্নফাঁস ও বৈষম্য, নারীদের অগ্রাধিকার, শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়ন, জননিরাপত্তা, মাদক ও সন্ত্রাস দমনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও স্থানীয় ইস্যুতে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এসব প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মনোনীত যশোর সদর আসনের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা, মেধার যথাযথ মূল্যায়ন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়াই বিএনপির মূল লক্ষ্য।
সোমবার দুপুরে যশোর পৌরপার্কে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মতবিনিময়কালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সৈকত বলেন, চাকরিতে প্রশ্নফাঁস ও নিয়োগ বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিএনপি ক্ষমতায় এলে এসব সমস্যা সমাধানে কী পদক্ষেপ নেয়া হবে-সে প্রশ্ন রাখেন তিনি।
এ সময় যশোর মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী সামিউল ইসলাম প্রশ্ন করেন, বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় এলে যশোর মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম কবে নাগাদ সম্পন্ন হবে? রোগীরা কীভাবে সেবা পাবে? চিকিৎসকদের নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করতে
সরকারের কী পদক্ষেপ থাকবে?
জবাবে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ভোট দেয়ার আগে প্রার্থীর পরিচয়, জীবন ও রাজনৈতিক কার্যক্রম সম্পর্কে জানা জরুরি। নির্বাচনের আগে সবাই সুন্দর কথা বলে। কেউ কেউ আকাশের চাঁদ এনে দেয়ার প্রতিশ্রুতিও দেয়। কিন্তু আস্থা রাখতে হলে প্রার্থীর ব্যাকগ্রাউন্ড জানা প্রয়োজন। মূল্যবোধ ধারণ করলেই মানুষের ওপর আস্থা রাখা সহজ হয়।
তিনি বলেন, বিএনপি বিগত দিনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নকলের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছিল। নকল হলে মেধাবী শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। লিখিত পরীক্ষায় কখনো প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠেনি। তবে মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। কোটা সংস্কারের বিষয়ে ২০১৪ সালেই বিএনপির নেতা কথা বলেছেন। মেধা কখনো কোটার চেয়ে কম হতে পারে না।
অমিত বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে চাকরির বাজার উন্মুক্ত রাখা হবে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। আমার বাবা চারবার এমপি ছিলেন, কখনো এক কাপ চায়ের বিনিময়ে কাউকে চাকরি দেননি। জনগণের কাছে আমাদের ওয়াদা—চাকরির ক্ষেত্রে কোনো দলীয় পরিচয় লাগবে না। ছাত্রদল কিংবা বিএনপি পরিবার হওয়া বাধ্যতামূলক হবে না। প্রকৃত মেধার ভিত্তিতেই চাকরি হবে।
নারীদের বিষয়ে তিনি বলেন, মাস্টার্স পর্যন্ত মেয়েদের পড়াশোনা বিনামূল্যে করা হবে। ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি বেতনসহ নিশ্চিত করা হবে। আমাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নারীদের ঘরে আটকে রাখতে চায়। কর্মঘণ্টা কমাতে চায়। কিন্তু নারীদের ঘরে আটকে রেখে বাংলাদেশ এগোতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, ২০০৬ সালে যশোর মেডিকেল কলেজ চালুর দাবি আমার পিতা তরিকুল ইসলাম সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছে উত্থাপন করেছিলেন। আমরা সরকার গঠন করতে পারলে এবং আমি নির্বাচিত হতে পারলে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া নিশ্চিত করা হবে।
এম এম কলেজের শিক্ষার্থী ইশা রহমান বলেন, বিজ্ঞান বিভাগে যথাযথ প্রযুক্তির অভাব রয়েছে, কলেজে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা ও অডিটোরিয়াম নেই। বিএনপি ক্ষমতায় এলে শিক্ষা খাতে বাজেট কেমন হবে-সে প্রশ্ন রাখেন তিনি।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাব্বির আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি সঠিক ধারা ও সহাবস্থান কতটা নিশ্চিত করা হবে? যদি বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে।
জবাবে অমিত বলেন, এম এম কলেজে পানির লাইন ও পাঠাগার মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বাধার কারণে তা বাস্তবায়ন করা যায়নি। ইতোমধ্যে এম এম কলেজে ওয়াইফাই জোনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা সম্ভব হয়নি। নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক, পানির সমস্যা সমাধানসহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞানাগার চালু করা হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে জাতীয় বাজেটের জিডিপির পাঁচ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে চায় বিএনপি। আমার বাবা যশোর এম এম কলেজে অনার্স কোর্স চালু করেছিলেন। পাকিস্তান আমলে এম এম কলেজে শহীদ মিনার নির্মাণের দায়ে তাকে কারাবরণ করতে হয়েছিল।
অমিত আরও বলেন, এই অঞ্চলের কৃষিপণ্য ও জিআই পণ্যের যথাযথ বাজারজাতকরণ এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে তার সরকার কাজ করবে।
ছাত্র রাজনীতির বিষয়ে তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি থাকলে তা প্রকাশ্যে থাকতে হবে। না থাকলে কোনো গুপ্ত ছাত্র রাজনীতি থাকবে না। ছাত্রদলের নাম ব্যবহার করে কেউ সাধারণ শিক্ষার্থীদের হয়রানি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যশোরকে সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত করার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। বিগত দিনে এমপিরা তরুণদের ভোটব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করেছে—এমন প্রশ্নের উত্তরে অমিত বলেন, আমি তরুণদের ব্যবহার করতে চাই বাংলাদেশ গড়ার কাজে।
নির্বাচন পরবর্তী সময়ে তরুণদের সঙ্গে বসবেন কিনা-এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে সবার সঙ্গে বসে অগ্রাধিকারভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করব।
তিনি বলেন, গত ১৬ বছরে যশোরের সামাজিক বন্ধন পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। ধর্ম-বর্ণ ও মতপথের ভিন্নতা সত্ত্বেও আমরা একসঙ্গে চলতাম, কিন্তু রাজনীতির কারণে সেই সহাবস্থান নষ্ট হয়েছে। আমি যশোরে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের রাজনীতি চর্চা করতে চাই।
তিনি আরও বলেন, যশোর অঞ্চলের রাস্তাঘাট ও জলাবদ্ধতার সমস্যা গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত সমাধানে কাজ করা হবে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা সম্প্রসারণসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে।
তরুণ সমাজের রাজনীতিতে অনাগ্রহ ও মাদকাসক্তি প্রসঙ্গে অমিত বলেন, এ দায় আমাদের সবার।
বিশেষ করে রাজনীতিবিদদের। সামাজিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পৃষ্ঠপোষকতায় মাদক বেড়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসীদের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা কমানো হবে। যুবকদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করা হবে। বাল্যবিবাহ বন্ধ ও নারীদের কর্মক্ষম করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হবে।
মতবিনিময় সভায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দোলোয়ার হোসেন খোকন, ছাত্রদলের সম্পাদক বাপ্পিসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

